কোলম্বোর রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ গ্রুপ এ ম্যাচে পাকিস্তান ১১৪ রান দিয়ে ৬১ রান পার্থক্যে ভারত একে হারিয়েছে। রোবিবার সন্ধ্যায় দুই দল মুখোমুখি হয়, যেখানে ভারত এ ১৭৫-৭ স্কোরে টার্নসেট করে শীর্ষে উঠে। পাকিস্তানের সরকারী অনুমোদন পেয়ে দল শেষ মুহূর্তে মাঠে নামলেও ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
ভারত এ টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বেরিয়ে রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ট্যাকি পিচে ১৭৫-৭ স্কোর তৈরি করে। ওপেনার অভিষেক শর্মা প্রথম ওভারে আউট হওয়ার পর ইশান কিশানের ৭৭ রান দলকে স্থিতিশীল করে। সুর্যকুমার যাদব ৩২ এবং শিবম দুবে ২৭ যোগ করে মোট স্কোর বাড়ায়, যখন জসপ্রীত বুমরাহের শেষ ওভারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেয়।
পাকিস্তান ১৩-৩ দিয়ে শুরুর ওভারে কঠিন অবস্থায় পড়ে, যখন বুমরাহ সাইম আয়ুবকে ছয় রানেই এবং স্কিপার সালমান আগাকে চার রানেই আউট করে। দ্রুত গতি এবং পরিবর্তনশীল স্পিনের কারণে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়, ফলে শুরুর দুই ওভারে মাত্র ১৩ রান সংগ্রহ করে।
উসমান খান ৪৪ রান করে দলের একমাত্র বড় শট তৈরি করলেও পাকিস্তান ১৮ ওভারে ১১৪ রানে আটকে যায়। এই স্কোরটি ভারত এয়ের বিপক্ষে টি২০ ইতিহাসে তৃতীয় সর্বনিম্ন মোট, যা দলের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মাইক হেসন, পাকিস্তানের প্রধান কোচ, ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমের অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেন, “এখন ড্রেসিং রুমে বেশ হতাশা দেখা যাচ্ছে, কারণ সবাই জানে এই জয় পাকিস্তানের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি যোগ করেন, “আমরা জানি ভারত এ বিরোধী ম্যাচ বড় ইভেন্ট, তবে আজ আমরা প্রতিপক্ষের হাতে হারিয়েছি।”
হেসন ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, “প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল, কারণ পূর্বের তিনটি ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করা দল জয়ী হয়েছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, “কিশানের আক্রমণাত্মক খেলা আমাদের পরিকল্পনা ভেঙে দিয়েছে, ফলে আমরা গেমটি হারিয়ে ফেলেছি।”
এই জয় দিয়ে ভারত এ তৃতীয় ম্যাচে জয় অর্জন করে সুপার ইইটস পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে। অপরদিকে পাকিস্তানকে বাকি একটিম্যাচ জিততে হবে, যা বুধবার নামিবিয়া দলের বিরুদ্ধে নির্ধারিত। হেসন উল্লেখ করেন, “আমাদের দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং পরের দুই-তিন দিনের মধ্যে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।”
ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানের ভারত এয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ রেকর্ড এখন ১-৮, এবং ওডিআই বিশ্বকাপে সব আটটি ম্যাচই হারিয়েছে। এই পরিসংখ্যান দলকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রাখে, বিশেষ করে এই টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে।
পাকিস্তান এখন ড্রেসিং রুমের মনোবল পুনর্গঠন করে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে, যাতে টুর্নামেন্টে তাদের যাত্রা অব্যাহত থাকে।



