20 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিফয়েজ আহমদ টেলিকম লাইসেন্স না দিয়ে দুর্নীতি না করার দাবি

ফয়েজ আহমদ টেলিকম লাইসেন্স না দিয়ে দুর্নীতি না করার দাবি

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ফেসবুকে একটি পোস্ট প্রকাশ করে জানান, তিনি টেলিকম লাইসেন্স প্রদান না করে কোনো দুর্নীতির সুযোগই তৈরি করেননি। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, লাইসেন্স না দেওয়ায় রাজনৈতিক দলের বহু সদস্য তার ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।

ফয়েজ আহমদ তার পোস্টে সতর্ক করেন, যদি তিনি কোনো বিষয় উন্মোচন করেন তবে বহু ভদ্রলোকের শুধু প্যান্টই নয়, আন্ডারঅয়্যারও প্রকাশের ঝুঁকি থাকে। তিনি বলেন, তার কাজের ওপর সমালোচনা ও আলোচনা করা উচিত, যাতে দেশের দু-পয়সা উপকার হয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, টেলিকমের প্রধান দুর্নীতির উৎস হল লাইসেন্স প্রদান, এবং তিনি ইতিহাসের প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কোনো লাইসেন্সই দেননি। ফলে তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি করার কোনো সুযোগই তার হাতে নেই।

ফয়েজ আহমদ তার সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে গৃহীত ছয়টি অধ্যাদেশ ও নীতিমালার তালিকা তুলে ধরেন। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত), ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধাদেশ, ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত), ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধনী) অধাদেশ, ২০২৬ (গেজেট প্রকাশিত), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত), ন্যাশনাল সোর্স কোড পলিসি, ২০২৬ (আন্তমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত), ন্যাশনাল এআই পলিসি, ২০২৬ (খসড়া প্রকাশিত) এবং ন্যাশনাল ক্লাউড পলিসি, ২০২৬ (খসড়া প্রকাশিত)।

টেলিকম খাতের সংস্কারেও তিনি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথা বলেন। তার সময়ে গৃহীত হয়েছে টেলিকম লাইসেন্স ও নেটওয়ার্কিং পলিসি (গেজেট প্রকাশিত), টেলিযোগাযোগ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ (গেজেট প্রকাশিত), ন্যাশনাল সার্ভেইল্যান্স প্রসেস প্রস্তাবনা, টেলিকম নেটওয়ার্ক লাইসেন্সের নতুন গাইডলাইন এবং রোলআউট অবলিগেশন ও কেপিআই বেঞ্চমার্কিং। এসব নীতি টেলিকম সেবা ও নেটওয়ার্কের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে লক্ষ্য রাখে।

ডাক বিভাগে তার নেতৃত্বে করা সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাকসেবা অধ্যাদেশ, ২০২৬, নতুন ঠিকানা ব্যবস্থাপনা ও ম্যাপিং ব্যবস্থা, ভাসমান ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন পরিকল্পনা, ডিজিটাল পার্সেল ও পোস্টাল ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং ই-কমার্স রূপান্তরের জন্য সেন্ট্রাল লজিস্টিকস ট্র্যাকিং। এসব উদ্যোগ ডাকসেবাকে আধুনিকায়ন এবং গ্রাহক সেবার গুণগত মান উন্নত করার দিকে নির্দেশিত।

ফয়েজ আহমদ উল্লেখ করেন, তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে কোনো টেলিকম লাইসেন্সই প্রদান করেননি, ফলে লাইসেন্সের মাধ্যমে সৃষ্ট দুর্নীতির সম্ভাবনা সম্পূর্ণই অদৃশ্য হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার নীতি ও সংস্কারগুলো দেশের টেলিকম ও আইসিটি অবকাঠামোকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সহায়ক হবে।

তার পোস্টের পর রাজনৈতিক জগতের কিছু সদস্যের কাছ থেকে সমালোচনা ও প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। তবে ফয়েজ আহমদ জোর দিয়ে বলেন, তার কাজের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা করা উচিত, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। এই অবস্থান ভবিষ্যতে টেলিকম লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালার পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের দিকে ইঙ্গিত দিতে পারে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ফয়েজ আহমদের এই প্রকাশনা টেলিকম ও আইসিটি খাতের সংস্কারকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি করবে এবং সরকারকে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উৎসাহিত করবে। তার দাবিগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে টেলিকম সেক্টরে দুর্নীতি কমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments