ইউক্রেনের প্রাক্তন জ্বালানি মন্ত্রী গারমান গালুশেনকোকে দেশের সীমান্ত অতিক্রমের সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যান্টি‑করাপশন ব্যুরো (NABU) রপ্তারির সময় তাকে থামিয়ে নিয়েছে এবং এখন তাকে কিয়েভে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করা হবে। গালুশেনকো কোন গন্তব্যে যাচ্ছিলেন তা স্পষ্ট নয়।
গালুশেনকোকে গত বছর সরকার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কারণ তিনি একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত একটি বিশাল দুর্নীতির মামলায় নামেছিলেন। তিনি তিন বছর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তারপর ন্যায়বিচার মন্ত্রীর পদে সংক্ষিপ্ত সময় কাজ করেন এবং নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি থেকে পদত্যাগের আদেশ পান।
এই দুর্নীতি মামলায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৫ কোটি পাউন্ড) পরিমাণের তহবিলের অপব্যবহার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি তহবিলকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে বড় আকারের হেরফের করেছেন। মামলাটি ‘অপারেশন মিডাস’ নামে পরিচিত এবং এটি ১৫ মাসের তদন্তের ফলাফল।
অপারেশন মিডাসের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সরকারকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়। জেলেনস্কি ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের আগে দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন, তবে এই স্ক্যান্ডেল তার প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নীতির ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
প্রেসিডেন্টের নিকটতম উপদেষ্টা এবং চিফ‑অফ‑স্টাফ আন্দ্রিয় ইয়েরমাকের বাড়ি অনুসন্ধান করা হয় এবং তৎপরই তিনি পদত্যাগ করেন। যদিও জেলেনস্কি ও ইয়েরমাকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ তোলা হয়নি, তবুও এই ঘটনা সরকারের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য বাড়তি চাপ দেখা দিচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে সংবিধানিক বিধান অনুসারে নির্বাচনের ব্যবস্থা স্থগিত করা হয়েছিল, তবে বর্তমান দুর্নীতি মামলাগুলি আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরকে দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার আহ্বান জানাচ্ছে।
NABU রবিবার একটি বিবৃতিতে জানায় যে তাদের গোয়েন্দা দল গালুশেনকোকে “সীমান্ত পারাপারের সময়” আটক করেছে এবং তাকে মিডাস মামলার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও গালুশেনকোকে সরাসরি নাম না দিয়ে, বেশ কয়েকটি প্রধান ইউক্রেনীয় মিডিয়া সংস্থা তাকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।
মিডিয়া সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গালুশেনকো ট্রেনের মাধ্যমে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সীমান্ত রক্ষীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে তিনি যদি পালানোর চেষ্টা করেন তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে। এই নির্দেশনা অনুসরণ করে গালুশেনকোকে আটক করা হয়।
গালুশেনকোর পূর্ববর্তী পদগুলোর মধ্যে জ্বালানি মন্ত্রীর পাশাপাশি স্বল্প সময়ের জন্য ন্যায়বিচার মন্ত্রীর দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত। তিনি যখন ন্যায়বিচার মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, তখনই জেলেনস্কি তাকে পদত্যাগের আদেশ দেন। তার উত্তরসূরি স্বিটলানা হ্রিনচুকও একই স্ক্যান্ডেলে জড়িয়ে পড়ে এবং পদত্যাগ করে।
NABU গালুশেনকোর গ্রেপ্তার সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে ভবিষ্যতে আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রেডিও ফ্রি ইউরোপের রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে গালুশেনকোকে কিয়েভে নিয়ে গিয়ে আরও তদন্ত করা হবে এবং তিনি সীমান্ত রক্ষীর নির্দেশনা অনুযায়ী আটক হয়েছেন।
এই ঘটনার পর ইউক্রেনের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। দুর্নীতি মামলায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার সরকারকে দুর্বল করে তুলতে পারে, তবে একই সঙ্গে জেলেনস্কির প্রশাসনের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার সংকেতও দেয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফলে শীঘ্রই নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের সম্ভাবনা বাড়বে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নীতি-নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
অপারেশন মিডাসের ধারাবাহিকতা এবং গালুশেনকোর মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ইউক্রেনের দুর্নীতি বিরোধী প্রচেষ্টার দৃঢ়তা নির্দেশ করে। তবে এই প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ রাজনৈতিক জোটের পুনর্গঠন, প্রশাসনিক পুনর্নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন রূপ গড়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই মামলাগুলি সমাধান হবে এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নজর রাখার বিষয় হবে।



