রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ঢাকা শহরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াতে ইসলামী নায়েব আমির আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তহের তর্কের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তহেরের সঙ্গে তর্কের জন্য উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দুই বিশিষ্ট নেতা তারেক রহমান ও শফিকুর রহমান। দুজনের এই সাক্ষাৎকে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
বসুন্ধরা এলাকায় তহেরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রায় এক ঘণ্টা সময় আলোচনা চলে। দুই নেতা এবং তহেরের মধ্যে রাজনৈতিক অগ্রগতি, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বৈঠকের শেষে তহের উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য শেয়ার করেন।
তহের উল্লেখ করেন, নতুন সংস্কৃতি গঠনকে স্বাগত জানানো দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। তিনি বলেন, এমন একটি পরিবেশ যেখানে স্বচ্ছতা ও সমালোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হয়, তা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি সভার সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রকাশ করেন।
বৈঠকের সময় তর্কের মাধ্যমে উভয় পক্ষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। তহের উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য আশাবাদ জাগিয়ে তুলেছে। তিনি দুই নেতার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রসঙ্গে তহের বলেন, আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে উভয় দল মৌলিকভাবে একমত হয়েছে যে ইতিবাচক সমাধান খোঁজা সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের জন্য উন্মুক্ত সংলাপ অপরিহার্য। এই দৃষ্টিভঙ্গি জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পথে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ তহেরের দল থেকে দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় দলীয় সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। এই পরামর্শের মধ্যে বিশেষভাবে বিএনপি-কে (বিএনপি) অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।
তহেরের মতে, প্রথমে আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া কোনো উন্নয়নমূলক কাজ সম্ভব নয়। তাই সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
জনগণের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তহের কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক সেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বাস্তবিক উন্নয়ন ছাড়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠন অসম্ভব। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সরকারকে ত্বরিত নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন।
বৈঠকের পর তহেরের মন্তব্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। দুই দলের নেতার মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে ওঠা হলে সংসদীয় কাজকর্মে সমন্বিত প্রচেষ্টা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তহেরের নতুন সংস্কৃতি গঠনের আহ্বান এবং বিএনপি অগ্রাধিকার পরামর্শ উভয়ই দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জামায়াতে ইসলামী নায়েব তহেরের নেতৃত্বে তর্কের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের স্বাগত, স্বৈরাচারবিরোধী ঐক্যের অভিজ্ঞতা, এবং সরকার গঠনে বিএনপি অগ্রাধিকার পরামর্শ দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গুণগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। এই উদ্যোগের ফলাফল কী হবে তা আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে।



