ওপেনএআই-এর সিইও সাম অল্টম্যানের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত এখন চ্যাটজিপিটি-র দশ কোটি সপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। এই তথ্যটি সরকারীয় এআই শীর্ষ সম্মেলনের পূর্বে প্রকাশিত হয়, যেখানে দেশীয় নীতি নির্ধারক ও প্রযুক্তি নেতারা একত্রিত হচ্ছেন। অল্টম্যানের মন্তব্যের ভিত্তি হল টায়মস অফ ইন্ডিয়া-তে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ, যেখানে তিনি ভারতের এআই গ্রহণের গতি তুলে ধরেছেন।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওপেনএআই আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের “ইন্ডিয়া এআই ইম্প্যাক্ট সামিট”-এ সরকারি আয়োজনের অংশ হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। অল্টম্যান নিজে এবং বিশ্বের শীর্ষ এআই কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন, যা দেশের এআই নীতি ও শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ওপেনএআই, অন্যান্য প্রধান এআই সংস্থার মতোই, ভারতের বিশাল তরুণ জনসংখ্যা এবং এক বিলিয়নেরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে বৈশ্বিক সম্প্রসারণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কোম্পানি আগস্ট ২০২৫-এ দিল্লিতে একটি অফিস স্থাপন করে, যা কয়েক মাসের প্রস্তুতির পর বাস্তবায়িত হয়।
দিল্লি অফিসের প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি, ওপেনএআই ভারতের মূল্য সংবেদনশীল গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে একটি সাশ্রয়ী সাবস্ক্রিপশন মডেল চালু করে। “চ্যাটজিপিটি গো” নামে পরিচিত এই সেবা মূলত পাঁচ ডলারের নিচে মূল্য নির্ধারিত ছিল, তবে পরে এক বছর পর্যন্ত ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় বাজারে প্রবেশের বাধা কমিয়ে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে সহায়তা করেছে।
অল্টম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারত চ্যাটজিপিটি-র দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবহারকারী ভিত্তি গঠন করে। এই অবস্থান ওপেনএআই-র বৈশ্বিক কৌশলে ভারতের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে, যেখানে দেশটি কেবল ব্যবহারকারী সংখ্যা নয়, বরং প্রযুক্তি গ্রহণের গতি ও উদ্ভাবনী সম্ভাবনায়ও অগ্রণী।
বিশ্বব্যাপী চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী সংখ্যা অক্টোবর ২০২৫-এ ৮০০ মিলিয়ন সপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমানে ৯০০ মিলিয়নের কাছাকাছি পৌঁছানোর পথে রয়েছে। ভারতের এই বিশাল ব্যবহারকারী ভিত্তি, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে, প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অল্টম্যান উল্লেখ করেছেন যে, ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ছাত্র ব্যবহারকারী গোষ্ঠী গঠন করে, যা এআই টুলের শিক্ষামূলক প্রয়োগকে ত্বরান্বিত করছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে এআই সংহতকরণে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে। গুগল, যা আলফাবেটের অধীনস্থ, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছরের জন্য তার “এআই প্রো” পরিকল্পনা বিনামূল্যে প্রদান করে বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়িয়েছে। এই পদক্ষেপটি গুগলের শিক্ষামূলক এআই সেবার ব্যবহার বাড়াতে এবং স্থানীয় ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে লক্ষ্য করে।
একই সময়ে, গুগলের শিক্ষা বিভাগীয় উপ-প্রধান ক্রিস ফিলিপসের মতে, শিক্ষার উদ্দেশ্যে গেমিনি প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারেও ভারত শীর্ষে রয়েছে। গেমিনি, গুগলের এআই মডেল, শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা, বিশ্লেষণ এবং সৃজনশীল কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেশের এআই শিক্ষার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করছে।
এইসব তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট যে, ভারতীয় বাজারের বিশাল সম্ভাবনা এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ওপেনএআই এবং গুগলসহ প্রধান এআই সংস্থাগুলি স্থানীয় ব্যবহারকারীর চাহিদা ও মূল্য সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সেবা প্রদান করছে, যা প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। আগামী বছরগুলোতে এআই টুলের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে, এবং শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংহতকরণ দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।



