ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে হোয়াইট হাউস সামাজিক মাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক থিমযুক্ত কার্ড প্রকাশ করে, যার লক্ষ্য মাদুরো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতি সমালোচনা করা। প্রকাশিত পোস্টে “কেবলমাত্র আপনার জন্য তৈরি” শিরোনামসহ প্রতিটি কার্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বা সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনা চিত্রিত হয়েছে।
৩ জানুয়ারি, মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলায় হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ম্যানহাটনের কারাগারে আটক, মাদক পাচারের গুরুতর অভিযোগে বিচারাধীন।
অন্যান্য কার্ডে ট্রাম্পের শাসনকালে গৃহীত কিছু সিদ্ধান্ত, যেমন গ্রিনল্যান্ডের ওপর বিতর্কিত পরিকল্পনা, এবং এল সালভাদোরের গ্যাং সদস্য অ্যাবার্গো গার্সিয়ার সঙ্গে যুক্ত ডেমোক্র্যাট সেনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের মদ্যপান ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।
গার্সিয়া, যিনি ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুলবশত এল সালভাদোরে নির্বাসিত হন, মূলত তার নিজ দেশে হুমকির মুখে থাকা বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত আনা হয় এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
প্রতিটি কার্ডের শেষে বিশেষ একটি বার্তা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “অবৈধ ভিনদেশীদের জন্য ডেমোক্র্যাটদের ভালবাসার মতো আপনার জন্য আমার ভালবাসাও দৃঢ়। আমি আপনার সঙ্গে মদ্যপানের জন্য ১ হাজার ৫৩৭ মাইল উড়ে যাব।” এই বাক্যটি সরাসরি মাদুরোর প্রতি সমালোচনামূলক রূপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ অনুসারে, অধিকাংশ কার্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এবং তার উপপ্রধান কর্মচারী ড্যান স্কাভিনো ও যোগাযোগ বিষয়ক উপ পরিচালক কায়েলান ডরকে সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এই ধরনের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশকে কিছু বিশ্লেষক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চলমান আলোচনায় এই পদক্ষেপের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ওপর আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি সম্পর্কেও সমালোচনা তীব্রতর হয়েছে। গার্সিয়ার ঘটনাকে অভিবাসন নীতির এক বড় ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এই ধরনের রাজনৈতিক প্রকাশনা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন এবং অভিবাসন নীতির পুনর্বিবেচনা সম্ভবনা বাড়ছে।
সামগ্রিকভাবে, ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে হোয়াইট হাউসের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণের নতুন পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে আলোচনা উসকে দিতে পারে।



