কলম্বোতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে ভারত এ ৬১ রানের পার্থক্যে পাকিস্তানকে পরাজিত করে সুপার ৮ে স্থান নিশ্চিত করেছে। দু’দলকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও ম্যাচটি কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই শেষ হয়, এবং ভারত এ ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে নয়টি জয় অর্জন করে।
টসের সময় দু’ক্যাপ্টেন হাত না মিলিয়ে টস নিল, এবং শেষ ওভারে কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে বিনিময় না ঘটায় ম্যাচের পরিবেশ শীতল রইল। তবে মাঠে উভয় দলের পারফরম্যান্সই স্পষ্টভাবে বিজয়ীর দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
ভারত এ প্রথম ব্যাটিংয়ে ওপেনার ইশান কিশানের আক্রমণাত্মক খেলা ম্যাচের টোন নির্ধারণ করে। তিনি ৪০ ball-এ ৭৭ রান করে দ্রুত স্কোর তৈরি করেন, যা টার্নিং পিচে কঠিন শর্তে অর্জিত একটি চমৎকার পারফরম্যান্স। কিশানের আক্রমণাত্মক শটের ফলে ভারত এ ১৭৫ রান ৭ উইকেটের সঙ্গে পোস্ট করে, যা টার্গেট হিসেবে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল।
পাকিস্তানের স্পিনাররা রেট রেট করে স্কোরিং কমাতে এবং উইকেট নিতে চেষ্টা করলেও, কিশানের শুরুর আক্রমণাত্মক ইনিংসের ফলে রেট বাড়তে পারল না। পাকিস্তান ১৭৫-৭ স্কোরে টার্গেটের মুখোমুখি হয়।
চেজিংয়ে ভারত এ দ্রুত শুরুর সুবিধা নেয়। হার্দিক পান্ড্যা প্রথম ওভারে উইকেট নেন, আর জাসপ্রিত বুমরাহ দ্বিতীয় ওভারে দু’টি উইকেট নেন, যা পাকিস্তানের ব্যাটিং ক্রমকে দ্রুত ভেঙে দেয়। পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যাটসম্যান উসমান খান ৪৪ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ দেখালেও, দলটি ১৮ ওভারে ১১৪ রানেই আটকে যায়।
ফলস্বরূপ, ভারত এ নিশ্চিতভাবে সুপার ৮ে অগ্রসর হয় এবং ২০২৪ সালে জয়লাভ করা শিরোপা রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হবে। অন্যদিকে, পাকিস্তানকে বুধবার নামিবিয়া দলের বিপক্ষে জয়লাভ করতে হবে সুপার ৮ে স্থান নিশ্চিত করার জন্য। যদি পাকিস্তান সেই ম্যাচ জিতে নেয়, তবে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে দু’দল আবার সেমি ফাইনাল বা ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে।
ম্যাচের আগে পাকিস্তান এক সপ্তাহ আগে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে বয়কটের ঘোষণা দেয়, তবে ব্যাপক আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বড় দর্শকসভার সামনে অনুষ্ঠিত হয়, যা উভয় দেশের ভক্তদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ড হয়।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত এ টিমের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, বিশেষ করে তাদের ধারাবাহিকতা এবং শুরুর আক্রমণাত্মক খেলা নিয়ে। পাকিস্তানের জন্য এখনো টুর্নামেন্টে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ বাকি, তবে তাদের ব্যাটিং লাইনআপের স্থিতিশীলতা এবং স্পিনারদের কার্যকারিতা উন্নত করতে হবে।
সার্বিকভাবে, কলম্বোতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি দুই দেশের ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায় যোগ করেছে, যেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও ক্রীড়া আত্মা বিজয়ী হয়েছে। ভবিষ্যতে দু’দল যদি আবার মুখোমুখি হয়, তবে তা হবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রত্যাশিত মুখোমুখি গুলোর একটি।



