জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আজ একটি নোটিশের মাধ্যমে জানিয়েছে যে ফয়সাল মাহমুদের বাংলাদেশ হাইকমিশনের নিউ দিল্লি প্রেস বিভাগে মন্ত্রী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। interim সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রায় নয় মাস আগে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ কার্যকর করেছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে অবশিষ্ট মেয়াদটি বাতিল করা হয়েছে, তবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
ফয়সাল মাহমুদকে ২৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে দুই বছরের চুক্তি ভিত্তিতে প্রেস মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী তার মেয়াদ ছিল ২৩ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময়কালে তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস কার্যক্রম তদারকি করতেন।
বাতিলের নোটিশটি আজজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ মামুন শিবলী স্বাক্ষরিত। নোটিশে শুধুমাত্র চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যাখ্যা বা শর্ত প্রদান করা হয়নি। এই ধরনের নোটিশ সাধারণত সরকারি পোর্টাল ও অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হয়।
বাতিলের পেছনের কারণ সম্পর্কে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা না থাকায় বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে।
ফয়সাল মাহমুদের চুক্তি প্রায় নয় মাস আগে শেষ হওয়ার আগে বাতিল হওয়ায় তার মেয়াদে বাকি সময়ের প্রায় অর্ধেক অংশ অপ্রতিপাদ্য রয়ে গেছে। এই অপ্রত্যাশিত পদত্যাগ তার কাজের ধারাবাহিকতায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে হাইকমিশন দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিশাল জয়লাভ করে। এই জয়লাভের পর দলটি এখন নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি পদে পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা বাড়ছে।
বিএনপি সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় ফয়সাল মাহমুদের পদত্যাগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত দল থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সরকার গঠনের পর নতুন দায়িত্বে নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রেস মন্ত্রণালয়ের এই পদত্যাগের ফলে হাইকমিশনের মিডিয়া কৌশল ও যোগাযোগে সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি দ্রুতই নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে। তবে সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে থাকায় অনুমানই বাকি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়ায় এমন সিদ্ধান্তগুলো স্বাভাবিক হতে পারে।
পরবর্তী সময়ে সরকার সম্ভবত নতুন প্রেস মন্ত্রী নিয়োগের জন্য একটি নতুন চুক্তি জারি করবে। এই বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তা অনুসরণ করবে। এ পর্যন্ত ফয়সাল মাহমুদের চুক্তি বাতিলের নোটিশই একমাত্র সরকারি নথি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।



