যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক নথিপত্রের একটি বড় সংগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলোতে সিলিকন ভ্যালির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এবং ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) স্টার্টআপের মধ্যে সরাসরি বিনিয়োগের সম্পর্ক প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে ডেভিড স্টার্ন নামে এক ব্যবসায়ী এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ গড়ে তুলে, ফারাডে ফিউচার, লুসিড মোটরস এবং কানুo সহ বেশ কয়েকটি ইভি প্রকল্পে তহবিলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এই তথ্যগুলো প্রযুক্তি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ এপস্টেইনের আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উচ্চপ্রযুক্তি স্টার্টআপে প্রবেশের পদ্ধতি আগে অজানা ছিল। প্রকাশিত নথিগুলোতে দেখা যায়, স্টার্ন এপস্টেইনের সঙ্গে বহুবার মিটিং করে, তার আর্থিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ইভি সেক্টরের উদীয়মান কোম্পানিগুলোকে সমর্থন করার পরিকল্পনা করতেন।
ইভি শিল্পের প্রারম্ভিক পর্যায়ে, বিশেষ করে দশ বছর আগে, চীনা বিনিয়োগকারীরা এই বাজারে বড় আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তারা নিজেদেরকে সিলিকন ভ্যালির স্টার্টআপের মতো উপস্থাপন করে, যুক্তরাষ্ট্রে অফিস স্থাপন এবং স্থানীয় কোম্পানিগুলোতে মূলধন প্রদান করতেন। এই সময়ে চীনের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অটোমেকার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ফার্মগুলোও ইভি ও স্বয়ংচালিত প্রযুক্তিতে প্রবেশের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল।
ডেভিড স্টার্নের অংশগ্রহণের ফলে, কিছু ইভি স্টার্টআপের তহবিলের উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে কানুo, যা ২০১৮ সালের শুরুর দিকে গোপনীয়ভাবে কাজ শুরু করেছিল, তার বিনিয়োগকারীদের তালিকা অস্বচ্ছ ছিল। কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে যায়, এবং তার আর্থিক কাঠামো সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের জন্য একাধিক আইনি মামলায় জড়িয়ে পড়ে।
কানুোর ক্ষেত্রে, আদালতে উন্মোচিত নথিগুলোতে দেখা যায় যে ডেভিড স্টার্ন এপস্টেইনের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানির পরিকল্পনা উপস্থাপন করতেন। তবে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনা এই তহবিলের উৎস সম্পর্কে স্পষ্টভাবে প্রকাশ না করে, ফলে বিনিয়োগকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়। এই অস্বচ্ছতা শেষ পর্যন্ত কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি করে, যা দেউলিয়ার দিকে নিয়ে যায়।
ফারাডে ফিউচার এবং লুসিড মোটরসের ক্ষেত্রে, এপস্টেইনের নথিতে উল্লেখিত তহবিলের অংশ কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে। যদিও এই দুই কোম্পানি এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাজারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবু তাদের প্রাথমিক তহবিলের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে লুসিড মোটরসের উচ্চমূল্যায়িত শেয়ার বিক্রয় এবং ফারাডে ফিউচারের বড় মাপের উৎপাদন পরিকল্পনা, এপস্টেইনের আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমর্থনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
এই প্রকাশের পর, সিলিকন ভ্যালি এবং ইভি শিল্পের মধ্যে আর্থিক স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের পটভূমি ও তহবিলের উৎস সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকলে স্টার্টআপের সুনাম ও বাজারের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে, চীনের মতো বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও স্বচ্ছতা বজায় রেখে স্থানীয় উদ্ভাবনী প্রকল্পে অংশগ্রহণ করলে উভয় পক্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা নিশ্চিত হবে।
সিলিকন ভ্যালির ইভি স্টার্টআপগুলো এখনো দ্রুত বিকাশের পথে রয়েছে, তবে এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশিত তথ্যগুলো দেখায় যে আর্থিক প্রবাহের গোপনীয়তা এবং অনৈতিক সংযোগের ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি বাড়ানো এবং বিনিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, ন্যায়বিচার বিভাগের নথিপত্রে ডেভিড স্টার্নের এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইভি স্টার্টআপে তহবিলের প্রস্তাব স্পষ্ট হয়েছে। চীনা বিনিয়োগের প্রাথমিক প্রবাহ, কানুোর অস্বচ্ছ তহবিল, এবং ফারাডে ফিউচার ও লুসিড মোটরসের সম্ভাব্য সংযোগ—all এই বিষয়গুলো ইভি শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠন ও নিয়ন্ত্রক নীতির ওপর প্রভাব ফেলবে। শিল্পের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।



