দক্ষিণ আফ্রিকান আর্চবিশপ দেসমন্ড টুটুর ওপর ভিত্তি করে নতুন ডকুমেন্টারি ‘টুটু’ বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিশেষ স্ক্রিনিং হিসেবে সোমবার প্রদর্শিত হবে। চলচ্চিত্রটি স্যাম পোলার্ডের পরিচালনায় তৈরি, যিনি পূর্বে ‘MLK/FBI’ এবং ‘৪ লিটল গার্লস’ মতো সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক কাজের জন্য পরিচিত। টুটু ১৯৮৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনকারী, বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন।
দেসমন্ড টুটু ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান অ্যাংলিকান গির্জার বিশপ ও ধর্মতত্ত্ববিদ, যিনি আপারথেড বিরোধী সংগ্রামে ধর্মীয় নীতিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। তার হাসিখুশি স্বভাব এবং মানবাধিকার রক্ষার দৃঢ় সংকল্প তাকে জাতীয় ও বৈশ্বিক নৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে গড়ে তুলেছে। পোলার্ডের ডকুমেন্টারিতে টুটুর ব্যক্তিগত ও জনসাধারণের জীবনের নানা দিক উন্মোচিত হয়েছে।
স্যাম পোলার্ডের ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনের মানবাধিকার বিষয়ক চলচ্চিত্রে সমৃদ্ধ। তিনি পূর্বে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, SNCC এবং সিভিল রাইটস মুভমেন্টের ওপর ভিত্তি করে কাজ করেছেন, যা তাকে সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। টুটুর জীবনের গভীরতা অনুসন্ধানে তিনি এই প্রকল্পকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করেন।
ডকুমেন্টারিতে ব্যবহৃত আর্কাইভ ফুটেজের বেশিরভাগই দক্ষিণ আফ্রিকান সাংবাদিক রজার ফ্রাইডম্যান ও বেনি গুলের ২০ বছরের সংগ্রহ। এই অদেখা দৃশ্যগুলো টুটুর পারিবারিক মুহূর্ত, উপাসনা সেবা এবং অনানুষ্ঠানিক সমাবেশের স্বাদ তুলে ধরে। ক্যামেরা তার পরিবারের সঙ্গে গরম গ্রীষ্মের বারবিকিউতে নাচতে-গাইতে, উপাসকদের সঙ্গে গানের সুরে মেতে উঠতে এবং ফোনে কথা বলার সময়ও হাস্যকরভাবে ব্যাঘাত ঘটতে দেখা যায়।
একটি দৃশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওবামা টুটুর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপের চেষ্টা করছেন, তবে নিরাপত্তা দল দ্রুত ক্যামেরা টিমকে পিছিয়ে দেয়। টুটু তখন হাস্যরসাত্মকভাবে এক্সোসা ভাষায় মন্তব্য করেন যে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে “ধাক্কা দিতে” চায়। এই মুহূর্তটি ডকুমেন্টারির মানবিক দিককে উজ্জ্বল করে, যেখানে টুটুর স্বাভাবিক রসিকতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
পোলার্ডের মতে, টুটুর জীবনের বহু স্তর রয়েছে; তিনি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতা নয়, বরং পরিবারিক দায়িত্ব ও ধর্মীয় সেবায় সমানভাবে নিবেদিত একজন মানুষ। তিনি টুটুর সঙ্গে কাজ করার সময় নিজের পূর্বের কাজের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “আমি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং সিভিল রাইটস আন্দোলন নিয়ে কাজ করেছি, তবে টুটুর মানবিক দিকটি আলাদা স্তরে রয়েছে।” এই মন্তব্যটি ডকুমেন্টারির অনুসন্ধানী স্বরকে আরও স্পষ্ট করে।
‘টুটু’ ডকুমেন্টারির প্রথম প্রদর্শনী বার্লিন ফেস্টিভ্যালের বিশেষ স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের অংশ, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ফেস্টিভ্যালে এই ধরনের বিশেষ প্রদর্শনী সাধারণত উচ্চমানের বিষয়বস্তু ও সৃষ্টিকর্তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে ব্যবহৃত হয়। টুটুর জীবনের এই নতুন দৃষ্টিকোণ দর্শকদেরকে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা ছাড়াও ব্যক্তিগত চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।
ডকুমেন্টারির নির্মাণে টুটুর সঙ্গে কাজ করা পরিবারিক সদস্য ও সহকর্মীদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত, যা তার মানবিক গুণাবলীর গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করে। এই সাক্ষাৎকারগুলোতে টুটুর হাসিখুশি স্বভাব, তার ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার অনুসরণ এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্য তার অবিচল প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট হয়।
ডকুমেন্টারির প্রকাশনা টুটুর নৈতিক দিকনির্দেশনা এবং মানবাধিকার রক্ষার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখে। চলচ্চিত্রটি টুটুর জীবনের উজ্জ্বল মুহূর্তগুলোকে সংরক্ষণ করে, যা ভবিষ্যতে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রেকর্ড থাকবে।
প্রকাশের পর দর্শক ও সমালোচকরা টুটুর মানবিক দিক, তার পরিবারিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের সমন্বয়কে প্রশংসা করার সম্ভাবনা রয়েছে। ডকুমেন্টারিটি টুটুর জীবনকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, যা তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গুণাবলীরও উদযাপন করে।



