বঙ্গের জাতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন মাইলফলক গড়ে উঠেছে; আজ সন্ধ্যায় জামায়াত‑ইসলামি আমীর শাফিকুর রহমানের বাসায় বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সফর অনুষ্ঠিত হয়। এই সাক্ষাৎকারটি বাশুন্ধরা এলাকায় অবস্থিত শাফিকুরের বাসা-অফিসে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সাক্ষাৎকারের সময় তারেক রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বিএনপি সচিব-general মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জোটের স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য নাজরুল ইসলাম। দুজনেই শাফিকুরের সঙ্গে একত্রে বৈঠক করে আলোচনায় অংশ নেন।
বৈঠকের পর শাফিকুর রহমান তারেককে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনার এই সফর আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আপনার আগমন আমাদের জোটের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতীক।”
শাফিকুরের বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন—একটি দেশ যা ফ্যাসিজম থেকে মুক্ত, সার্বভৌম এবং ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, “আমি এমন একটি বাংলাদেশ কল্পনা করি যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষিত থাকবে এবং দেশের উন্নয়ন সর্বজনীন হবে।”
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিরোধী কর্মীদের ওপর আক্রমণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা সকল প্রকার সহিংসতা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যাতে কোনো নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা অনুভব না করে।”
শাফিকুর রহমান এই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা যে কোনো নাগরিককে ভয় বা অনিরাপত্তার শিকার হতে না হয়।” তিনি জোটের সকল সদস্যকে এই দায়িত্বের প্রতি সচেতন হতে আহ্বান জানান।
শাফিকুরের মতে, জামায়াত‑ইসলামি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে পূর্ণ সহযোগিতা করবে, তবে আদর্শগত বিরোধী হিসেবে তার সংবিধানিক দায়িত্ব বজায় রাখবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সংঘর্ষ নয়, সংশোধন; বাধা নয়, তদারকি।”
এটি স্পষ্ট করে যে, শাফিকুরের দৃষ্টিতে সংসদকে এমন একটি সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যা ন্যায়বিচার রক্ষা করে, নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিকে সমর্থন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে যা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের পথে অগ্রসর হয়।”
এই সাক্ষাৎকারের পরিপ্রেক্ষিতে ১১‑দলীয় জোটের সংহতি আরও দৃঢ় হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। শাফিকুরের উক্তি এবং তারেকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ উভয়ই নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অতএব, এই বৈঠকটি শুধুমাত্র দুই ব্যক্তির মধ্যে সাক্ষাৎ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদানকারী মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শাফিকুরের ঐতিহাসিক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত‑ইসলামি ও বিএনপি জোটের সমন্বিত কৌশল নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।
বৈঠকের শেষে শাফিকুর এবং তারেক উভয়ই একে অপরের প্রতি পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।



