রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা শহরের লোহার রোডে অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রায় দেড় বছর পর তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের অপ্রত্যাশিত প্রবেশের পর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল চারটায় দলীয় কর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং সন্ধ্যা সাতটায় ভাঙচুর শুরু হয়।
বিকেল চারটায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লোহার রোডের সংলগ্ন অফিসে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজন স্বয়ংকে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, “রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে, আমরা নতুন সরকারকে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে আহ্বান জানাই এবং আমাদের এই অধিকার ফিরে পেতে চাই।”
প্রবেশের পরই কিছু সময়ের মধ্যে কার্যালয়ের জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলা এবং দরজা-দেয়াল ভাঙার কাজ শুরু হয়। ভাঙচুরের সময় কিছু অংশে গ্লাস ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে এবং অফিসের অভ্যন্তরে অস্থায়ীভাবে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।
সন্ধ্যা সাতটায় কিছু কর্মীর হাতে অল্প পরিমাণে জ্বালানি ব্যবহার করে কার্যালয়ের এক কোণে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়। অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে না গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের হস্তক্ষেপে নিভে যায়।
খুলনা সদর থানার ওসি কবীর হোসেন জানান, বিকেলে হঠাৎ করে সাত-আটজনের একটি দল অফিসে প্রবেশ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাদের কার্যকলাপ রেকর্ড হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
ওসি আরও জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় ‘রেড জুলাই’ নামে পরিচিত সাত-আটজনের একটি ছাত্রদল অফিসে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করে, তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপে আগুন দ্রুত নিভে যায়।
নগরীর টুটপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, অল্প সময়ের মধ্যে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো গুরুতর ক্ষতি বা আঘাতের রিপোর্ট নেই। তিনি যোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই আগুন নিভিয়ে ফেলেছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
দলীয় নেতারা উল্লেখ করেছেন, তারা নতুন সরকারের নীতি ও শাসন পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত রাজনীতি চালানোর দাবি করে। এই ধরনের প্রতিবাদ ও অশান্তি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ সিসিটিভি রেকর্ড বিশ্লেষণ করবে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনি দায়িত্ব আরোপের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ফায়ার সার্ভিসও ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
সামগ্রিকভাবে, খুলনা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের এই ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং আইনগত প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত করেছে, যা নির্বাচনের পূর্বে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।



