আজ দুপুর ১টার দিকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এসএউ) উপাচার্য ড. মো. আলিমুল ইসলাম-এর অফিসে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ ঘটেছে। শিক্ষকগণ বিভিন্ন কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে অবশ্যম্ভাবীভাবে ময়দানে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনায় মাছবায়ু ও জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন এবং আহতদের মধ্যে বিভাগীয় প্রধান ড. মোজাম্মেল হকও অন্তর্ভুক্ত।
সন্ধ্যাবেলা শিক্ষকগণ উপাচার্যের অফিসে গিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিশেষ করে অনিয়মিত অস্থায়ী নিয়োগের বিরোধিতা প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পদে অবৈধভাবে নিয়োগ করা হচ্ছে এবং পূর্বে অপসারিত রেজিস্ট্রার, প্রোক্টর ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের পুনঃস্থাপন করা দরকার। এসব দাবি উপাচার্যের নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা জোর দেন।
অধিকাংশ শিক্ষক এই দাবিগুলো উপাচার্যের সামনে তুলে ধরার পর, উপাচার্য অফিসের কিছু কর্মী হঠাৎ করে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। আক্রমণের ফলে মাছবায়ু ও জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ইকবাল গম্ভীর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। একই সঙ্গে ড. মোজাম্মেল হক এবং অন্যান্য কয়েকজন শিক্ষকও আঘাতপ্রাপ্ত হন। আঘাতের পরিমাণের কারণে তারা তৎকালীন সময়ে চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য হন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলেই আতঙ্কে ভেসে গিয়েছিলেন।
ড. মোজাম্মেল হক, যিনি অগ্রোণোমি ও হাওর কৃষি বিভাগের প্রধান, বলেন যে, উপাচার্য পদে আসার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে অস্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে অবৈধ প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় শিক্ষক, কর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অনিয়মগুলোই শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপাচার্য ড. মো. আলিমুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, তিনি ইন্টারিম সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজগুলো নিয়ম অনুযায়ী চালানোর চেষ্টা করছেন। তার মতে, তার দায়িত্বকালে ক্যাম্পাসে একবার বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেছিল, যার ফলে শিক্ষার্থীর দাবিতে প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান যে, এক বছর পর শিক্ষকগণ আবার রেজিস্ট্রার, প্রোক্টর ও অন্যান্য পদে পুনঃস্থাপন চেয়ে তার কাছে আসেন, কারণ ইন্টারিম সরকার প্রায় শেষের দিকে রয়েছে।
উপাচার্য দাবি করেন যে, তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী প্যানেলে ছিলেন। তিনি শিক্ষকদের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, তিনি কোনো অবৈধ পদক্ষেপে যুক্ত নন। কথোপকথনের মাঝখানে কিছু শিক্ষক উপাচার্যের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করেন, তবে তার অফিসের অন্যান্য কর্মীরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার ফলে উপাচার্য নিজেও কিছু আঘাত পেয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য হন।
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। আহত শিক্ষক ও কর্মীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের সংঘর্ষ রোধে নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে শিক্ষকগণ এখনো তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি-নিয়মের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধে সকল পক্ষের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা এবং ন্যায়সঙ্গত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। পাঠকবৃন্দের জন্য প্রশ্ন: আপনার মতামতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত?



