নিলফামারী-১ (ডোমার‑ডিমলা) আসনে বাংলাদেশ ন্যাপের প্রার্থী জেবেল রহমান গানি ৪,৪৭৭ ভোটে পরাজিত হয়ে জামানত হারালেন; বিজয়ী হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আব্দুস সাত্তার, যিনি ১,৫০,৮২৪ ভোট পেয়ে সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন।
গানির দুই ধারাবাহিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৮ ও ২০২৪) মোট ভোটের অল্প অংশ পেয়ে জমা দেওয়া ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পেয়েছেন, ফলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
গানির পরিবারে রাজনৈতিক প্রভাবের শিকড় গভীর; দাদা মশিউর রহমান যাদু মিয়া ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে রেলপথ, সড়ক পরিবহন, সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
মশিউর রহমানের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে বড় ছেলে শফিকুল গানি স্বপন সংসদ সদস্যের পদ গ্রহণ করেন, পরে তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গঠিত জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জেবেল রহমানের ফুফু মনসুরা মহিউদ্দিনও নিলফামারী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্যের পদ গ্রহণ করেন এবং পরপর দুইবার নির্বাচনে জয়লাভ করেন, যা পরিবারকে স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছিল।
তবে স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, একসময় পরিবারটির জনপ্রিয়তা ও প্রভাব শীর্ষে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কমে এসেছে; জেবেল গানি পূর্বের রাজনৈতিক সংযোগ বজায় রাখতে পারেননি।
২০০৯ সালে শফিকুল গানি স্বপনের মৃত্যুর পর জেবেল গানি বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করেন এবং দলীয় নেতৃত্বে কাজ চালিয়ে যান।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গানি ৪,৯৯২ ভোট পেয়ে প্রার্থী হিসেবে শেষ হন; একই নির্বাচনে ১,৮৮,৭৮৪ ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফতাব উদ্দিন সরকার জয়ী হন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে গানি পুনরায় প্রার্থী ছিলেন, তবে মোট ভোটের অল্প অংশই পেয়ে তিনি আবারও জামানত হারিয়ে ফেলেন।
নিলফামারী-১ আসনের মোট ভোটের সংখ্যা ১,৫০,৮২৪, যার মধ্যে গানি ৪,৪৭৭ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটের এক ভাগের কমের সমান।
বাংলাদেশ ন্যাপ, যা ২০০৯ সালে গঠন করা হয়, তার মূল লক্ষ্য হল জাতীয়তাবাদী নীতি ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে জোর দেওয়া; গানির নেতৃত্বে দলটি নিলফামারী-১ এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলেও ভোটের ফলাফল তা প্রমাণ করতে পারেনি।
প্রতিটি নির্বাচনী প্রার্থীর জন্য নির্ধারিত ডিপোজিটের পরিমাণ ১ লক্ষ টাকা; ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে এই ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত হয়, যা গানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে গানির প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে পারিবারিক উত্তরাধিকার ছাড়াও উন্নয়নমূলক কাজের অভাব ও যোগাযোগের দুর্বলতা উল্লেখ করা হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির সরকার জানান, কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পায়, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং ডিপোজিট ফেরত না দিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়।
গানির দল এখন নতুন কৌশল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে পারিবারিক নামের ওপর নির্ভরশীলতা আর কার্যকর নাও হতে পারে।
নিলফামারী-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ উভয়ের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে; গানির মতো ছোট দলগুলোর জন্য ভোটার ভিত্তি গড়ে তোলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ফলাফল জেবেল গানির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে; বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, পরিবারিক প্রভাবের হ্রাস এবং স্থানীয় সংযোগের দুর্বলতা তার পরবর্তী নির্বাচনী কৌশলে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে।



