অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। শপথ সম্পন্ন হওয়ার পর একই গাড়িতে ফিরে আসবে, তবে গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়ে, পরবর্তীতে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রেস সচিব শফিকুল আলম গাড়ি ও পতাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শপথের দিন উপদেষ্টা গাড়িতে গিয়ে শপথ গ্রহণের পর গাড়িটি তাদের বাসায় পৌঁছাবে, তবে গাড়িতে আর পতাকা থাকবে না।
প্রেস সচিবের মতে, শপথের সময় গাড়ি জাতীয় পতাকার সঙ্গে সাজানো থাকবে, কিন্তু শপথের পর গাড়ি ফ্ল্যাগবিহীন অবস্থায় ফিরে আসবে। এই ব্যবস্থা শপথের আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি গাড়ির ব্যবহারিক দিককে বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম আরও যোগ করেন, উপদেষ্টা সকলেই দেশের গর্বিত সন্তান এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেবেন। তিনি তাদের দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধকে প্রশংসা করে বলেন, তারা দেশের সেবা চালিয়ে যাবে।
এই উপদেষ্টা পরিষদ ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত হয়। ঐ দিন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।
প্রায় দেড় বছর পর, গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটও সম্পন্ন হয়। এই দুইটি প্রক্রিয়া নতুন সরকারের গঠনকে নিশ্চিত করেছে।
নতুন সরকারের শপথের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে। শপথ অনুষ্ঠানটি আগামী মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।
শপথের পর, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের সমাপ্তি হবে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের চিহ্ন বহন করবে। এই অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শপথের পরও দেশের মধ্যে থাকবেন এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান চালিয়ে যাবেন। তাদের উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিনগুলোতে, শপথের প্রস্তুতি ও গাড়ি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্ট করা হয়েছে, যাতে শপথের দিন কোনো লজিস্টিক সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।
শপথের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, নতুন মন্ত্রিসভার গঠন ও কার্যক্রম শুরু হবে, যা দেশের উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।



