20 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নতুন সরকারের শপথের পরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যারাকে প্রত্যাহার ঘোষণা

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নতুন সরকারের শপথের পরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যারাকে প্রত্যাহার ঘোষণা

রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, দুপুর ১১ টায় ক্যাবিনেট সিক্রেটারেটের সিএএস দরবারে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, সেনাপ্রধান, নতুন সরকার শপথগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ব্যারা থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, পুলিশ সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর একটি ছোট দল মাঠে মোতায়েন থাকবে।

এই ঘোষণার সময় দরবারে উপস্থিত ছিলেন সব পদমর্যাদার সেনা সদস্য, যার মধ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সৈন্যরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সকলকে সমবেত করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন, যেখানে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সৈন্যদের দায়িত্বশীল আচরণকে প্রশংসা করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় সেনা সদস্যদের দ্রুত ও নির্ভুল কাজের জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন এবং তাদের দক্ষতাকে ‘চমৎকার দায়িত্বশীলতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই প্রশংসা, বিশেষত উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে, সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেনাপ্রধান দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে জোর দিয়ে বলেন, এই সেবা জাতি ও জনগণের স্মৃতিতে চিরস্থায়ী থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নাগরিক শাসনের শক্তি বাড়াতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

প্রত্যাহারের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যারা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার কার্যকর হবে। তবে, পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না নেয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি অংশ মাঠে অবস্থান করবে। এই অংশের কাজ হবে জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রদান এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বক্তব্যের শেষে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, ধৈর্যশীলদের আল্লাহ অবশ্যই পুরস্কৃত করবেন। এই ধর্মীয় উল্লেখ, তার বক্তৃতার নৈতিক ভিত্তি জোরদার করে এবং দেশের বৃহত্তর জনসংখ্যার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।

বিশ্লেষকরা এই ঘোষণাকে সরকার-সেনাবাহিনীর মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা বলেন, সামরিক বাহিনীর দ্রুত প্রত্যাহার নাগরিক শাসনের স্বীকৃতি বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকি কমাবে। একই সঙ্গে, সীমিত সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিকল্পনা নিরাপত্তা শূন্যতা রোধে সহায়ক হবে।

বিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী দলগুলো নতুন সরকারের শপথের সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক প্রবাহ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, কিছু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন, পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না নিলে সাময়িক নিরাপত্তা ফাঁক তৈরি হতে পারে, তাই সেনা মোতায়েনের সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরকার শীঘ্রই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবে, এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি পুলিশকে অর্পণ করা হবে। সেনাবাহিনী তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে ব্যারা থেকে প্রত্যাহার শুরু করবে, যা নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করবে।

এই ঘোষণার মাধ্যমে নতুন সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তি দৃঢ় হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করার জন্য সামরিক বাহিনীর ভূমিকা স্বীকৃতি পেয়েছে, এবং ভবিষ্যতে নাগরিক শাসনের শক্তি বাড়াতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

সামগ্রিকভাবে, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের এই বক্তব্য দেশের নিরাপত্তা নীতি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় সাধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার এবং সীমিত মোতায়েনের পরিকল্পনা দেশের গণতান্ত্রিক সংহতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments