থাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা, লিচুতলা এলাকায় রোববার বিকালে ১৭-১৮ মাসের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শেষে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কার্যালয় পুনরায় খুলে গৃহীত হয়। নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে “জয় বাংলা” স্লোগান উচ্চারণের পর জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে। এই অনুষ্ঠানটি দীর্ঘ সময়ের নিষেধাজ্ঞা ভাঙার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথমে উপস্থিত নেতারা কার্যালয়ের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে, এরপর সমবেতভাবে “জয় বাংলা” স্লোগান গায়। কিছু সময় পর জাতীয় সংগীতের সুরে সবাই একসাথে গাইতে থাকে এবং উভয় পতাকা উঁচুতে তুলে ধরা হয়। পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিতিরা গর্বের সঙ্গে তালি দেয় এবং দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই কাজকে গুরুত্ব দেয়।
উদ্বোধনী সমাবেশে পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম রব্বানী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহারুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুমন মণ্ডল, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিগান, সাবেক ছাত্রনেতা সাগর, কুরবান আলী এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কবির ইসলামও অংশ নেন। এই নেতাকর্মীরা সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
গোলাম রব্বানী বলেন, “দীর্ঘ ১৭-১৮ মাস ধরে আমরা কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারিনি। আজ বহু নেতা ও কর্মী একত্রিত হয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেছি।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন যে, এই অনুষ্ঠানটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, তৃণমূল আওয়ামী লীগকে একত্রিত করার এবং গণমানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার প্রতীক।
রব্বানী আরও যোগ করেন, “জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐক্য ও দায়িত্বের পুনঃপ্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এটি আমাদের সংগঠনের পুনর্জীবনের সূচনা হবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন থেকে সংগঠনের কাঠামো শক্তিশালী করা, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক কর্মসূচি চালু করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর নেতাকর্মীরা সংগঠনের পুনর্গঠন, সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে নতুন উদ্যোগের কথা বলেন। তারা বলছেন, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কর্মশালা ও সমাবেশের মাধ্যমে ভিত্তি স্তরের সক্রিয়তা বাড়ানো হবে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
পূর্বে পীরগঞ্জে রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মূল কারণ ছিল স্থানীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে শেষ মাসগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে এই উদ্বোধনী সমাবেশের অনুমতি প্রদান করা হয়। এই অনুমোদনকে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশের স্বাভাবিকীকরণের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন উল্লেখ করেছে যে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনো আইন লঙ্ঘন বা অশান্তি সৃষ্টি হয়নি এবং সকল অংশগ্রহণকারী শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সম্পন্ন করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে যে, সমাবেশের সময় কোনো বাধা বা বিরোধের উদ্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই কার্যালয় উদ্বোধন স্থানীয় স্তরে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং আসন্ন নির্বাচনী চক্রে দলীয় উপস্থিতি বাড়াবে। তাছাড়া, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও উন্নয়নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীন ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, পীরগঞ্জে ১৭ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খোলা হয়েছে, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সংগঠনের ঐক্য ও দায়িত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের কাঠামো শক্তিশালীকরণ, সদস্যসংগ্রহ এবং উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



