বাংলাদেশ সরকারের একটি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিতে আসা নতুন মন্ত্রিসভার জন্য মন্ত্রিপাড়ায় ৪০টি বাড়ি এবং ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলছে এবং ঢাকা শহরের বেইলি রোড, গুলশান, ধানমন্ডি ও মিন্টো রোডকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত মন্ত্রিপাড়া এলাকায় কাজ করা হচ্ছে।
প্রস্তুতকৃত বাড়িগুলো মূলত interim সরকারে কাজ করা উপদেষ্টাদের দ্বারা ব্যবহার করা হতো; কিছু বাড়ি ফাঁকা থাকায় সেগুলোকে হাইজেনিক ওয়াশ, বাথরুম ফিটিংস পরিবর্তন এবং রঙের কাজের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে। এ ধরণের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য কোনো বাসস্থান সংকটের সম্ভাবনা নেই এবং প্রয়োজন অনুসারে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিকন্তু, interim সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনা নদীর পাশে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রকাশিত হয়নি। একইভাবে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একত্রিত করে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন গড়ার প্রস্তাবও রয়েছে, তবে তা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
মন্ত্রিপাড়া এলাকায় বর্তমানে মোট ১৫টি বাংলো বাড়ি রয়েছে। বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’ নামে তিনটি ভবনে প্রত্যেকটিতে দশটি করে ফ্ল্যাট, মোট ত্রিশটি ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা রয়েছে। লশান ও ধানমন্ডি এলাকায়ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে মন্ত্রিসভার জন্য মোট ৭১টি বাংলো বাড়ি ও ফ্ল্যাট রেকর্ডে রয়েছে।
গাড়ি সংক্রান্ত প্রস্তুতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি সময়মতো উপলব্ধ থাকে। সেই নির্দেশনা অনুসারে, প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০টি গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবদুল গণি রোডের যানবাহন অধিদপ্তর মিলনায়তনে দেখা যায়, interim সরকারের উপদেষ্টারা বর্তমানে যে গাড়ি ব্যবহার করছেন সেগুলোসহ মোট ৫০টি গাড়ি পরিষ্কার করা হচ্ছে। বর্তমান উপদেষ্টাদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন গাড়ি জমা দিয়েছেন।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের সময় তাদের বাসা থেকে বঙ্গবন্ধু ভবনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই গাড়িগুলো ব্যবহার করা হবে। ভিভিআইপি প্রোটোকল অনুসারে, জরুরি অবস্থায় অতিরিক্ত গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়; কোনো গাড়ি নষ্ট বা দুর্ঘটনায় পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প গাড়ি পাঠানো যায়। এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা ও সময়মতো পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি; সরকার গঠন প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এই বিষয়টি নির্ধারণ করবে। তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি দেখায়, নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ইতিমধ্যে সাজানো হচ্ছে।
বিপক্ষের কিছু নেতা এই ধরণের প্রস্তুতিকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছেন, তবে সরকার এ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভার গঠন ও শপথের পর এই গৃহায়ণ ও গাড়ি ব্যবহারের বাস্তবায়ন কিভাবে হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।



