গাইবান্ধা জেলায় আটক থাকা ৬০ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ নেতা শামিকুল ইসলামের আজ প্রভাত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কক্ষে মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।
শামিকুল ইসলাম পালাশবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং পালাশবাড়ি মহিলা কলেজের সহ-প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি অক্টোবর ১৮, ২০২৫ তারিখে ধ্বংসযজ্ঞ ও আক্রমণ সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার হয়ে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন, যার জন্য নিয়মিত ওষুধ গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়।
গত রাত হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা অনুভব করে তিনি গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে অবস্থার অবনতি দ্রুত ঘটায়, ফলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে রেফার করা হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধানের মতে শামিকুল ইসলাম প্রায় ২:৫০ টায় হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি সময় শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা এবং হৃদরোগের উপসর্গ স্পষ্ট ছিল। চিকিৎসা চলাকালীন ৩:৫০ টায় তিনি নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাসপাতালের সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃতদেহের অটোপসি সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে এবং শেষকৃত্য সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে।
গাইবান্ধা জেলার সূত্রে জানানো হয়েছে, আগস্ট ৫, ২০২৪ তারিখে আওয়ামী লীগ-নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর শামিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। একই বছরে ডিসেম্বর ৮ তারিখে ঢাকায় আরেকটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ সময় জেলায় ছিলেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেফতার হয়ে গত বছর জেলায় পাঠানো হয়।
শামিকুল ইসলামের মৃত্যু রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা কঠিন, তবে জেলায় আটক থাকা একজন উচ্চপদস্থ আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনা পার্টির আইনগত ও মানবিক অবস্থার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। বিরোধী দলের মন্তব্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ স্থানীয় স্তরে শোক প্রকাশ করেছে এবং শামিকুল ইসলামের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে। পার্টির প্রতিনিধিরা তার রাজনৈতিক অবদান ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করে, একই সঙ্গে জেলায় তার স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শামিকুল ইসলামের দীর্ঘকালীন স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি জেলায় চিকিৎসা সুবিধার অভাবের প্রশ্নও তোলা হয়েছে। জেলায় তার মৃত্যুর পর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা ও দায়িত্বশীলদের ওপর নজরদারির দাবি বাড়ছে।
শামিকুল ইসলামের পরিবার শোকাহত, এবং তার শেষকৃত্য সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে। অটোপসির ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর অবস্থা ও ভবিষ্যৎ বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্টতা আশা করা হচ্ছে।



