অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা শহরের বিভিন্ন সরকারি স্থানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সকালবেলা তিনি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অংশ নেন, যেখানে দীর্ঘ সময় আলোচনা চালিয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সভা সম্ভবত উপদেষ্টা পরিষদের শেষ সভা হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের শেষ সভা শেষ হওয়ার পর, বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশ সরকারকে নতুন দিকনির্দেশে পরিচালিত করবে। দুপুরের দিকে সালেহউদ্দিন আহমেদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে ফিরে এসে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে তিনি চলমান প্রকল্প এবং আর্থিক নীতির অগ্রগতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি কর্মকর্তাদের মতামত শোনার পাশাপাশি নিজ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎ শেষে তিনি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এই ভোজে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং ইআরডি সচিব উপস্থিত ছিলেন। সকল উপস্থিতি একত্রে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন, যা সরকারী নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মধ্যাহ্নভোজের সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা দেশের আর্থিক খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন, বিশেষ করে মুদ্রা নীতি, বাজেট বরাদ্দ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন। সালেহউদ্দিন আহমেদ এই আলোচনায় সরকারের আর্থিক রূপান্তর পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়কে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের সমন্বিত আলোচনা নীতি বাস্তবায়নে গতি প্রদান করবে।
বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত বিদায়ী সভায় অংশ নেন। এই সভা মূলত বিদায়ী উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সম্মান জানিয়ে এবং নতুন দায়িত্বশীলদের স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সকল সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
বিদায়ী সভায় আলোচনার বিষয়বস্তুতে উপদেষ্টা পরিষদের কাজের সাফল্য, চলমান প্রকল্পের অবস্থা এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের সময়সূচি অন্তর্ভুক্ত ছিল। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং সরকারকে সমর্থন জানান। সভার সমাপ্তিতে সকল উপস্থিতি একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নেন।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই ব্যস্ত সূচি শেষে, অফিস সূত্রে জানা যায় যে, সালেহউদ্দিন আহমেদ সোমবারও অফিসে উপস্থিত থাকবেন এবং চলমান কাজের তদারকি করবেন। তিনি আগামী সপ্তাহে পরিকল্পিত আর্থিক নীতি পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার উপস্থিতি সরকারী আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
এই দিনব্যাপী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেখা যায় যে, অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদের শেষ সভা এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের সম্ভাবনা দুটোই দেশের আর্থিক দিকের পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে সরকারী নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয়কে সহজ করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনের বিদায়ী সভা সরকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে। এই ধরনের সমন্বিত সভা ভবিষ্যতে নীতি গঠনের সময় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণকে একত্রিত করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপগুলোকে বিশ্লেষকরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন, কারণ এগুলো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নমূলক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের সম্ভাবনা এবং উপদেষ্টা পরিষদের শেষ সভা দুটোই দেশের অর্থনৈতিক নীতি পুনর্গঠনের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সালেহউদ্দিন আহমেদের ব্যস্ত দিনটি সরকারী কাজের ধারাবাহিকতা এবং নীতি নির্ধারণে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তার উপস্থিতি এবং বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকারী আর্থিক কাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যায়। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমন্বিত কার্যক্রম দেশের আর্থিক নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারকে আরও সুদৃঢ় করবে।
অবশেষে, আগামী সপ্তাহে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের সম্ভাবনা এবং আর্থিক নীতি পর্যালোচনার পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। সরকারী কর্মকর্তাদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সমন্বিত সভা দেশের আর্থিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে।



