রবিবার গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে চারটি সুশীল সমাজের সংগঠন যৌথভাবে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর পর্যবেক্ষণ ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটদান প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ হলেও, নির্বাচন‑পরবর্তী সময়ে সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে, প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নানা ধরণের বাধা ও অবহেলা দেখা গেছে।
নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতার ভয় প্রবল ছিল, তবে ভোটের দিন তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক পরিবেশ দেখা গিয়েছে। তবুও, কিছু ভোটকেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটারদের ‘অসহযোগিতা’ করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা জানায়। একই সঙ্গে, নারী প্রার্থীরা প্রচারকালীন সময়ে অনলাইন আক্রমণের শিকার হন, যদিও তা রোধে অন্তর্বর্তী সরকার বা নির্বাচন কমিশন কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি।
প্রতিবন্ধী ভোটারদের ক্ষেত্রে, বি স্ক্যানের পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো তাদের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত ছিল না। মেহেরপুর, ফরিদপুর, দিনাজপুর এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মোট আটটি আসনে ১০০টি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা হয়, যেখানে ১০০ জন প্রতিবন্ধী পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন। অধিকাংশ কেন্দ্রের প্রবেশ‑পথে র্যাম্পের অভাব বা মানহীন র্যাম্পের কারণে চলাচল কঠিন ছিল, ফলে অনেক ভোটার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি।
অধিকন্তু, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ ভোটারদের জন্য ভোটদান কক্ষ তৃতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত স্থাপন করা হয়েছিল, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যানবাহনের চলাচল সীমাবদ্ধ থাকায়, বিশেষ করে র্যাম্পের অনুপস্থিতি বা অপ্রতুলতা, ভোটারদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে। এসব অবকাঠামোগত সমস্যার মোকাবিলায় বি স্ক্যান ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান করার সুপারিশ করে।
সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচন‑পরবর্তী সময়ে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। যদিও সামগ্রিকভাবে ভোটদান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তবে প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সম্মুখীন সমস্যাগুলি নির্বাচন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ও সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
এই পর্যবেক্ষণগুলোকে ভিত্তি করে, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন, র্যাম্পের মানোন্নয়ন এবং পোস্টাল ব্যালটের প্রয়োগের মতো পদক্ষেপের দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রতি সহিংসতা ও অসহযোগিতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য র্যাম্পের মানদণ্ড নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্রের প্রবেশ‑পথের প্রশস্ততা বৃদ্ধি এবং ভোটদান কক্ষের অবস্থানকে নিম্নতলায় স্থানান্তর করা এই সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া, অনলাইন আক্রমণের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ ফলাফল দেখায় যে, ভোটদান প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণতা বজায় থাকলেও, প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতিগুলো দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।



