দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইং মন্ত্রণালয়ের পদে ফয়সাল মাহমুদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে যে, তার বাকি চুক্তির মেয়াদ শেষ করা হবে। এই পদক্ষেপের পেছনে সরকারি প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন ও কর্মক্ষমতার মূল্যায়ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফয়সাল মাহমুদকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ প্রেস মন্ত্রী পদে দুই বছরের চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তিনি পূর্বে শাবান মাহমুদ, যিনি একই পদে কাজ করতেন, তার পরিবর্তে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি হাইকমিশনের প্রেস কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন।
মাহমুদের আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে। আল জাজিরা, নিক্কেই এশিয়া, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, এশিয়া টাইমস, ভাইস নিউজ, ভয়েস অব আমেরিকা এবং দ্য ওয়্যারসহ বহু বিদেশি মিডিয়ায় তিনি রিপোর্টার ও বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলুর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপির সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুল খানের প্রকাশনা ‘বাংলা আউটলুক’-এর ইংরেজি সংস্করণের সম্পাদক হিসেবে তিনি সক্রিয় ছিলেন। নিক্কেই এশিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসএবিইডব্লিউ পুরস্কারও অর্জন করেন। এসব সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
ফয়সাল মাহমুদ বাংলাদেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এক, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সাবেক উপাচার্য ড. মো. আলী মুর্তুজার কনিষ্ঠ পুত্র। তাছাড়া তিনি ১৯৬৯ সালের গণ‑অভ্যুত্থানের শহীদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের (শহীদ আসাদ) ভাতিজা, যা তার পরিবারিক পটভূমিতে রাজনৈতিক সংযোগের ইঙ্গিত দেয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে যে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্তটি কর্মক্ষমতা ও নীতি অনুসারে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সরকারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি দেশের কূটনৈতিক কর্মী ব্যবস্থাপনা ও বিদেশে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্কের সংবেদনশীল পর্যায়ে প্রেস উইং মন্ত্রী পরিবর্তন হলে দু’দেশের মিডিয়া‑কূটনৈতিক সংযোগে সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, অভ্যন্তরীণ পার্টি গঠন ও কূটনৈতিক পোস্টে নিয়োগের মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
প্রেস উইং মন্ত্রীর শূন্যপদ পূরণের জন্য নতুন প্রার্থীর নির্বাচন প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পদে এমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে, যিনি কূটনৈতিক ও মিডিয়া দক্ষতার সমন্বয় বজায় রাখতে সক্ষম। একই সঙ্গে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ‑ইন্ডিয়া কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



