যুক্তরাষ্ট্রের দল গ্রুপ এ’তে নামিবিয়ার বিপক্ষে ৩১ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে ট২০ বিশ্বকাপের সুপার ইইটসের পথে তার সংকীর্ণ আশা পুনরুজ্জীবিত করেছে। ম্যাচটি ১৯৯-৪ স্কোরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং শেষ করে, যখন নামিবিয়া ২০ ওভারের শেষে ১৬৮-৬ দিয়ে থেমে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিংয়ে সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি ৬৮ না আউটের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাপ্টেন মনঙ্ক প্যাটেল ৫২ রান যোগ করে দলের মোট স্কোরকে শক্তিশালী করে। উভয় খেলোয়াড়ই মাঝারি ওভারগুলোতে আক্রমণাত্মক শটের মাধ্যমে রানের প্রবাহ বজায় রাখে, যা নামিবিয়ার বোলারদের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
নামিবিয়ার জবাবের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করেন লৌরেন স্টিনক্যাম্প ৫৮ রান, তবে তার পার্শ্বে অন্য কোনো ব্যাটসম্যান উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেনি। নামিবিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ২০ ওভারের শেষে ১৬৮-৬ স্কোরে থেমে থাকে, যা যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য থেকে ৩১ রান কম।
এই জয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পয়েন্ট চার হয়ে যায়, যা গ্রুপ এ’র চারটি ম্যাচের পর ভারত এ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সমান স্তরে দাঁড়ায়। উভয় দলই একই সময়ে তাদের পরবর্তী ম্যাচে মুখোমুখি হবে, ফলে টেবিলের অবস্থান নির্ধারণে শেষ দুই ম্যাচের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এখনো শেষ গ্রুপ গেমের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে, যাতে তাদের সুপার ইইটসের যোগ্যতা নিশ্চিত হয়। দলটি এখনো নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছে, তবে জয়লাভের ধারাবাহিকতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
গ্রুপ এ’র শেষ ম্যাচগুলোতে পাকিস্তান নামিবিয়ার সঙ্গে কলম্বোতে মুখোমুখি হবে, যেখানে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ভারত এ নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে আহমেদাবাদে বুধবারের ম্যাচে লড়াই করবে, যা তাদের পয়েন্ট বাড়ানোর সুযোগ দেবে।
এই দুই ম্যাচের ফলাফল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সুপার ইইটসের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করবে, কারণ টেবিলে সমান পয়েন্টে থাকা দলগুলো একে অপরের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল। যদি পাকিস্তান ও ভারত এ উভয়েই জয়লাভ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পয়েন্টে কোনো পরিবর্তন না হলে তারা টেবিলে তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে।
অন্যদিকে, যদি পাকিস্তান বা ভারত এ কোনো একটি দল হারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পয়েন্টে কোনো পরিবর্তন না থাকলেও তারা টেবিলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থান অর্জন করতে পারে, যা সুপার ইইটসের যোগ্যতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রুপ এ’র প্রতিটি দলই এখনো চারটি ম্যাচের পর সমান পয়েন্টে রয়েছে, ফলে শিরোনাম এবং সুপার ইইটসের স্থান নির্ধারণে শেষ দুই রাউন্ডের পারফরম্যান্সই মূল চাবিকাঠি।
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ টিমের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেছেন, দলটি চাপের মুহূর্তে স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে এবং ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ক্যাপ্টেন মনঙ্ক প্যাটেলও দলের আত্মবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, “আমরা প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং ফলাফল আমাদের উপর নির্ভরশীল।”
নামিবিয়ার কোচও দলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেছেন, যদিও স্কোরে পিছিয়ে পড়ে দলটি শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ করতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমাদের ব্যাটিংয়ে কিছুটা ধারাবাহিকতা দরকার, তবে আমরা ভবিষ্যতে উন্নতি করতে পারব।”
টুর্নামেন্টের সামগ্রিক দৃশ্যপটে দেখা যায়, গ্রুপ এ’র প্রতিযোগিতা খুবই তীব্র, যেখানে প্রতিটি দলই সুপার ইইটসের জন্য কঠোর লড়াই করছে। দলগুলোর মধ্যে পয়েন্টের সমতা এবং নেট রেটের পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত টেবিলের অবস্থান নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে, তবে এখনো শেষ দুই ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল। দলটি পরবর্তী ম্যাচে কীভাবে পারফর্ম করবে তা টুর্নামেন্টের অগ্রগতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯-৪ স্কোরে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৩১ রানের জয় তাদের সুপার ইইটসের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তবে টেবিলের সমতা বজায় থাকায় শেষ গেমগুলোর ফলাফলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।



