চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (সিসিসি) মেয়র এসএম শাখাওয়াত হোসেন আজ সকালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অফিসে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
সভায় ইউরোপীয় মিশনের দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক সুসান গিন্ডেল এবং মিশন সহকারী মোঃ মাসুক হায়দার উপস্থিত ছিলেন। দুজনের সঙ্গে আলোচনায় মেয়র শহরের উন্নয়ন ও সেবা প্রদানকে বাধাগ্রস্তকারী মূল সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।
এসএম শাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রামের অবকাঠামো কাজ ও মৌলিক সেবা প্রদান ধীরগতিতে চলছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সমর্থন ছাড়া বৃহৎ শহরের প্রশাসনিক কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মেয়র জানিয়েছেন, ২০২১ সালের সিসিসি নির্বাচনে অভিযোগিত অযথা হস্তক্ষেপের পর আদালতের রায়ে তিনি একমাত্র নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্বে আছেন। অন্য সব সিটি কর্পোরেশন বর্তমানে প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে কোনো নির্বাচিত মেয়র বা কাউন্সিলর নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার সঙ্গে কাজ করা উচিত ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর। এই কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন সেবা সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানের কাজ অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।
“একই দিনে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত গমন করতে হয়,” মেয়র বলেন, যা তার দৈনন্দিন কাজের চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা সময়মতো পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
এসএম শাখাওয়াত হোসেনের মতে, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে শীঘ্রই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিরা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং বিএনপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেয়র আরও যোগ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত শহরের উন্নয়নমূলক কাজগুলো অগ্রগতি পাবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রকল্পগুলো দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের দলও এই আলোচনার পর ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর একটি সমগ্র চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। প্রতিবেদনে সুপারিশসহ বিশদ বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং মিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
মিশন দল উল্লেখ করেছে, তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্বাচনী স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং ফলাফলের বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে। এই প্রতিবেদনটি দেশের নির্বাচনী সংস্কার ও স্থানীয় শাসনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি সরকারের উন্নয়নমূলক মিশনকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে নীতি বাস্তবায়ন দ্রুততর হতে পারে।
অবশেষে, মেয়র এসএম শাখাওয়াত হোসেনের আহ্বান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া দেশের স্থানীয় শাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



