22 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনওগাঁর ধামইরহাটে কুকুরের মাংস জবাইয়ের খবরের পর কসাই দুজন তোপের মুখে পালিয়ে...

নওগাঁর ধামইরহাটে কুকুরের মাংস জবাইয়ের খবরের পর কসাই দুজন তোপের মুখে পালিয়ে যায়

রোববার সকাল প্রায় ৯ টা ৩০ মিনিটে নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের নেংড়াপীর‑ইসবপুর সড়কের তেতুলতলী মোড়ে মঙ্গলবাড়ি বাজারে কুকুরের মাংস কাটা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুইজন কসাই—এনতাজুল ইসলাম ও দুলু মৌলভী—তৎক্ষণাৎ তোপের মুখে সরে যায়। এই ঘটনা স্থানীয় সংস্থাগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপের দরজা খুলে দেয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কসাই দুজনই তৎক্ষণাৎ স্থান ত্যাগ করে গিয়েছেন, ফলে বাজারে অস্থায়ী বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

নওগাঁর পুলিশ সুপারইন্টারভেনশন টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে জব্দকৃত কুকুরের মাথা, অঙ্গ এবং মাংস সংগ্রহ করে। দলটি স্থানীয়দের জানায় যে জব্দকৃত সামগ্রীকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হবে এবং ফলাফল অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। তদুপরি, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে যে আইনসঙ্গত ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো ঢাকা শহরের ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে কুকুরের মাংস কিনা তা নির্ধারণের জন্য বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ল্যাবের ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত মাংসের প্রকৃত স্বরূপ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তবে প্রাথমিক তদন্তে কুকুরের মাংসের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য।

কসাই এনতাজুল ও দুলু মৌলভী পূর্বে মঙ্গলবাড়ি বাজারে খাসির মাংস বিক্রি করতেন এবং নিজের বাড়িতে পশু জবাই করে সরাসরি বাজারে বিক্রি করার রীতি চালু ছিল। কুকুরের মাংস কাটা সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা তোপের মুখে দ্রুত সরে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। তাদের এই আচরণকে নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে।

পুলিশের দল ঘটনাস্থলে জব্দকৃত কুকুরের মাথা, অঙ্গ এবং মাংসের পাশাপাশি অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে। সংগ্রহিত সামগ্রীকে আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। স্থানীয়দের জানানো হয় যে, এই ধরনের অবৈধ জবাই ও বিক্রয় দেশের প্রাণি সুরক্ষা আইনের লঙ্ঘন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিষয়টি জানিয়ে বলেছে যে, কুকুরের মাংস বিক্রি ও জবাই করা দেশের প্রাণি সুরক্ষা আইনের অধীনে অপরাধ এবং এ বিষয়ে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অধিদপ্তর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধাপ অনুসরণ করবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করবে।

কসাই দুজনের বর্তমান অবস্থান অজানা, তবে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে স্থানীয়দের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং যে কোনো তথ্য প্রদানকারীকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ দল ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নজরদারি বজায় রেখে সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি রোধে কাজ করছে।

এই ঘটনার পর মঙ্গলবাড়ি বাজারে প্রাণী বিক্রির ওপর তীব্র নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনধিকারী জবাই রোধে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে। স্থানীয় বাজার প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একসাথে কাজ করে বাজারে বিক্রয়যোগ্য প্রাণীর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে।

অবশেষে, ল্যাবরেটরি ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর উভয়ই জানিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো কুকুরের মাংস জবাইয়ের মতো অবৈধ কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments