26 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাএলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে বন্ধ, তিতাস গ্যাসে চাপ কমে

এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে বন্ধ, তিতাস গ্যাসে চাপ কমে

রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির (টিএজিএস) অধীনস্থ এলাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা যায়। কোম্পানি একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় যে, দেশের প্রধান এলএনজি টার্মিনালগুলোর একটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস প্রবাহ কমে যায় এবং টিএজিএসের গ্রাহক বেসে—আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প—চাপের মাত্রা হ্রাস পায়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফলে টার্মিনাল থেকে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ থাকায় গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকবে। এই অবস্থা সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। টিএজিএসের কর্মীরা জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসবে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া সরাসরি শিল্প উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো, যেগুলো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গ্যাসের উপর নির্ভরশীল, তারা উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে, গৃহস্থালী গ্রাহকদের জন্য গরম পানির সরবরাহে অস্থায়ী ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা শীতল মাসে গৃহস্থালী ব্যয় বাড়াতে পারে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্যাসের সরবরাহে এই ধরণের অস্থায়ী ঘাটতি মূল্য স্থিতিশীলতায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও তাত্ক্ষণিক মূল্য বৃদ্ধি প্রত্যাশিত নয়, তবে সরবরাহ সংকোচনের ফলে গ্যাসের স্পট মূল্যে অল্প সময়ের জন্য উত্থান হতে পারে। এদিকে, বিকল্প জ্বালানি সরবরাহকারী, যেমন লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রেতা, স্বল্পমেয়াদে চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা তাদের বিক্রয় আয়কে সাময়িকভাবে বাড়িয়ে তুলবে।

বৈদ্যুতিক শক্তি খাতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর গ্যাস-চালিত টার্বাইন চালু করতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে, বিদ্যুৎ ঘাটতি বা লোড শেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে শীর্ষ চাহিদা সময়ে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্যাস সংরক্ষণ পরিকল্পনা ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে, টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের পুনরাবৃত্তি গ্যাস অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারে। শিল্প সংস্থা ও ব্যবসায়িক সমিতি গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও রিজার্ভ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার দাবি জানাতে পারে। একই সঙ্গে, গ্যাস শিপিং ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো রক্ষণাবেক্ষণ সময়সূচি পূর্বাভাসযোগ্য করে গ্রাহকদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারে।

টিএজিএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে এবং কাজ শেষ হলে সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে, গ্যাসের চাপ পুনরুদ্ধার সম্পূর্ণ হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে, যা গ্রাহকদের ধৈর্য্য ও সংযমের আহ্বান জানায়।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গ্যাস সরবরাহের অস্থায়ী হ্রাসের ফলে স্বল্পমেয়াদে গ্যাস-নির্ভর শিল্পের উৎপাদন সূচকে হ্রাস দেখা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে। তাই, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ সময়ে বিকল্প জ্বালানি উৎসের পরিকল্পনা করা এবং গ্যাস ব্যবহার অপ্টিমাইজ করার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা উচিৎ।

সারসংক্ষেপে, এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া তিতাস গ্যাসের গ্রাহকদের ওপর তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলবে, তবে কাজ শেষ হলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। ব্যবসা ও শিল্প খাতের জন্য এই সময়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প জ্বালানি কৌশল গঠন করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সরবরাহের অস্থিরতা থেকে সৃষ্ট ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments