রংপুর-৪ আসনের পরাজিত বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে রেজিস্ট্রার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসানকে সরাসরি তীব্র অভিযোগ ও অভিশাপ জানিয়ে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন।
ভরসা দাবি করেন, তার ভোট ‘ছিনতাই’ হয়েছে এবং পুনর্গণনা চাওয়ার পরেও প্রক্রিয়াগত দিক থেকে সময়সাপেক্ষ বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফলাফল পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে এবং দ্রুত পুনর্গণনার তারিখ নির্ধারণ না করা হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ক্ষয় হবে। এই অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুনর্গণনা অনুরোধের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা না দেওয়ার জন্যও রেজিস্ট্রারকে সমালোচনা করেন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা‑কাউনিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১,৪৯,৯৬৬ ভোটে জয়ী হন। ভরসা ১,৪০,৫৬৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে বসে, দুই প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য ৯,৪০২ ভোট। এছাড়া বাতিল ভোটের সংখ্যা ৮,২৬৩ ছিল, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত করেন।
ফলাফল ঘোষণার পর রংপুর-৩ (সদর), রংপুর-৪ (পীরগাছা‑কাউনিয়া) ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। ভরসা, সামসুজ্জামান সামু এবং সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন নেতা সরাসরি উপস্থিত হয়ে স্লোগান শোনান এবং আখতার হোসেন ও জেলা প্রশাসককে ‘ভোট চোর’ বলে অভিশাপ দেন। উপস্থিত ভিড়ের কিছু সদস্য রেজিস্ট্রারকে ‘অভিশাপ’ দিয়ে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, রংপুর-৩, রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার যথাযথতা নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সকল প্রমাণাদি পর্যালোচনা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কী ধরনের নির্দেশনা আসবে, তা এখনো অনিশ্চিত। যদি পুনরায় গণনা অনুমোদিত হয়, তবে তা কীভাবে পরিচালিত হবে এবং ফলাফলে কোনো পরিবর্তন হবে কিনা, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রংপুরে ভোটের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক বাড়তে পারে এবং এই বিষয়টি দেশের অন্যান্য অংশেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। পার্টিগুলো এখন আইনি প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য পুনর্গণনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আসন্ন সপ্তাহে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
সামগ্রিকভাবে রংপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্র হয়ে উঠেছে। ভরসা ও তার সমর্থকরা ফলাফলকে অবৈধ বলে দাবি করে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, আর রেজিস্ট্রার ও নির্বাচন কমিশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



