মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ চুক্তিভিত্তিক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং তার চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের তথ্য রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম উল্লেখ করেন যে, রশীদের অব্যাহতি ব্যক্তিগত কারণে এবং নির্বাচনের কিছু দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানানো হয়েছিল।
শফিকুল আলমের বিবরণে বলা হয়েছে, রশীদের চুক্তি বাতিলের পর সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ও অনুমানমূলক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ব্যক্তিগত কারণে রশীদ অব্যাহতি চেয়েছিলেন, তবে নির্বাচন নিকটবর্তী হওয়ায় মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে তিনি নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে সম্মত হন।
রশীদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের আনুষ্ঠানিক নোটিশ ১৪ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব (চুক্তিভিত্তিক) পদে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম অনুরোধ করেন যে, এই বিষয় নিয়ে অনুমানভিত্তিক তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে না দেওয়া হোক। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে দেন যে, রশীদের অব্যাহতি সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল এবং কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়।
রশীদের অব্যাহতি এবং চুক্তি বাতিলের পেছনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পূর্বে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রধান উপদেষ্টা রশীদকে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে রাখতে অনুরোধ করেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে পরিবর্তন ঘটবে। এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া নতুন চুক্তিভিত্তিক মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা সরকারী কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, রশীদের অব্যাহতি নির্বাচনকালে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে, তবে সরকার এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করেনি। সরকারী পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
রশীদের অব্যাহতি এবং চুক্তি বাতিলের তথ্য সরকারী নথিতে রেকর্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর প্রভাব কী হবে তা অনিশ্চিত, তবে প্রশাসনিক দিক থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর, সরকারী যোগাযোগের মাধ্যমে জনসাধারণকে সঠিক তথ্য প্রদান এবং গুজব প্রতিরোধের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো এই বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।



