বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) সদস্য দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশের শীর্ষ নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শপথ গ্রহণের আয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং আমন্ত্রণপত্রগুলো শীঘ্রই প্রেরণ করা হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা।
সার্কের আটটি সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রধান দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করবে বলে দলীয় নেতারা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেছেন, শপথ গ্রহণের সময় বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশের কূটনৈতিক নীতি শক্তিশালী করবে। এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের উপস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
অতিথি তালিকায় সার্কের সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যদিও নির্দিষ্ট দেশগুলো এখনও প্রকাশিত হয়নি। দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, আমন্ত্রণপত্রে অনুষ্ঠানের সময়সূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রোটোকল সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ থাকবে।
শপথ গ্রহণের আয়োজনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষভাবে শক্তিশালী করা হবে। ঢাকার প্রধান নিরাপত্তা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যাতে আন্তর্জাতিক অতিথিদের নিরাপদে স্বাগত জানানো যায়।
বিএনপি এই পদক্ষেপকে দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংহতি জোরদার করার একটি কৌশলগত চাল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। শপথ গ্রহণের পরপরই সরকারী নীতি ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যা দেশের বহিরাগত সম্পর্কের দিক পরিবর্তন করতে পারে।
বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেছেন, শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক শপথ নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আন্তর্জাতিক নেতাদের উপস্থিতি দেশের বৈশ্বিক নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং নতুন সহযোগিতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এই আমন্ত্রণের ফলে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সংস্থার মধ্যে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সংযোগ শক্তিশালী করতে সুযোগ মিলবে। বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
অধিকন্তু, শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে। এ ধরনের চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অবকাঠামো প্রকল্পে ত্বরান্বিত প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপি এই উদ্যোগকে দেশের কূটনৈতিক নীতি পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন ও সমাবেশে দেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শপথ গ্রহণের পরপরই এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সারসংক্ষেপে, শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে সার্কের সদস্য রাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



