১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত প্রায় আড়াইটায়, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় ঢাকা‑বগুড়া মহাসড়কের মহিপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছানো ফায়ার সার্ভিসের ৪৬ বছর বয়সী ফায়ার ফাইটার আহসান হাবিব, অন্য আহতদের উদ্ধার করার প্রচেষ্টায় নিজের প্রাণ হারান।
আহসান হাবিব গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার মৃত আবিদুর রহমানের পুত্র। তিনি শেরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফায়ার ফাইটার পদে নিয়োজিত ছিলেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তার নীরব ত্যাগের জন্য পরিচিত ছিলেন।
দুর্ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিট আগে স্টেশনে একটি সড়ক দুর্ঘটনার খবর পৌঁছায়। তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়, আহসান স্টেশনের প্রধান গেট খুলে মহাসড়কে চলমান যানবাহন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তার সিগন্যাল পেয়ে বগুড়া গামী একটি ট্রাক ধীরে ধীরে থেমে যায়।
একই দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস, থেমে থাকা ট্রাকের পেছন থেকে জোরে ধাক্কা দেয়। বাসের আঘাতে ট্রাকটি আহসানের ওপর চাপা পড়ে, ফলে তিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
আহসানকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তুলে নিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকগণ তার আঘাতের তীব্রতা মূল্যায়ন করে, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেরপুর উপজেলায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বখতিয়ার উদ্দিন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত ফায়ার ফাইটারের দেহকে তার গ্রাম বাড়িতে প্রেরণ করা হবে। তিনি আহসানের পরিবারকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি উপপরিদর্শক নূর হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও বাস উভয়ই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে দুটো গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সময় গেট খোলার পদ্ধতি, গাড়িগুলোর গতি, এবং চালকদের আচরণসহ বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হবে। স্থানীয় ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ত্রুটি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংশোধনী পদক্ষেপের সুপারিশ করা হবে।
এই ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও জরুরি অবস্থায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আহসানের ত্যাগের শোক প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা না ঘটার জন্য সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বিত প্রচেষ্টা চালু রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে এবং মৃত ফায়ার ফাইটারের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।



