চীন সরকার মঙ্গলবার থেকে কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। এই সিদ্ধান্তটি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়। ভিসা-মুক্ত সুবিধা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
কানাডা ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীরা জানুয়ারিতে বেইজিং সফর করেন, যেখানে তারা শি জিনপিং সহ চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দুই দেশের নেতারা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল নীতির প্রেক্ষিতে নতুন কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা খোঁজার লক্ষ্য প্রকাশ করেন।
সেই সফরের সময় শি জিনপিং এবং উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভিসা-মুক্ত প্রবেশের বিষয়ে সমঝোতা হয়। পরবর্তীতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সমঝোতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় যে, সাধারণ পাসপোর্টধারী কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ব্যবসা, পর্যটন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সাংস্কৃতিক বিনিময় বা ট্রানজিটের জন্য সর্বোচ্চ ত্রিশ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারবেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থা মানুষ-মানুষের বিনিময়কে সহজতর করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। চীনের কূটনৈতিক নীতি অনুযায়ী, ভিসা-মুক্ত প্রবেশের মাধ্যমে দু’দেশের নাগরিকদের মধ্যে ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক সংযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কানাডা ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরকে কূটনৈতিক মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় দেশই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সম্পর্ক বাড়াতে চেয়েছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনের ফলে চীন-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে।
শি জিনপিং এবং উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনায় ভিসা নীতি ছাড়াও অন্যান্য বিষয় যেমন বাণিজ্য, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা নিয়ে মতবিনিময় হয়। যদিও বিস্তারিত চুক্তি প্রকাশ করা হয়নি, তবে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, ভিসা-মুক্ত প্রবেশের শর্তাবলী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রযোজ্য এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সমন্বয় করা হতে পারে। এই নীতি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যার পর পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।
কানাডা ও যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আশা করে যে, ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক মিশন, পর্যটন গোষ্ঠী এবং শিক্ষাবিদদের চীনে ভ্রমণ সহজ হবে। বিশেষ করে, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য এই সুবিধা নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে।
চীনের পর্যটন সংস্থা ইতিমধ্যে ভিসা-মুক্ত নীতির প্রচারমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা কানাডা ও যুক্তরাজ্যের পর্যটকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ এবং সাংস্কৃতিক ইভেন্টের আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল দু’দেশের নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব বাড়ানো।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পদক্ষেপকে চীনের কূটনৈতিক কৌশলের একটি অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চীন অন্যান্য প্রধান দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ভিসা-মুক্ত প্রবেশের মাধ্যমে চীন তার আন্তর্জাতিক ইমেজ উন্নত করতে এবং বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে চায়।
সারসংক্ষেপে, চীনের নতুন ভিসা নীতি কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই ব্যবস্থা ব্যবসা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং চীন-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



