কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ এ ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তান দল মুখোমুখি হবে, আর এই গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি হওয়ার আগে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের হ্যান্ডশেক না করা নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তীব্রতা পেয়েছে।
প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটসম্যান ও টেলিভিশন মন্তব্যকর্তা সঞ্জয় মানজরেকার টুইটারে এই নীতি সম্পর্কে সরাসরি মত প্রকাশ করেন। তিনি নীতিটিকে “বোকা” এবং “একটি জাতির মর্যাদার বিরোধী” বলে সমালোচনা করেন। তার পোস্টে তিনি বলেছিলেন, “এই ‘হ্যান্ডশেক না করা’ বিষয়টি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং আমাদের জাতির জন্য অনুপযুক্ত।” তিনি আরও যোগ করেন, “গেমের আত্মা মেনে না খেললে পুরোপুরি না খেলাই উত্তম।”
মানজরেকার, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহু বছর ব্যাটিং ও বিশ্লেষণ করেছেন, তার মন্তব্যের টোন ছিল সরল ও তীক্ষ্ণ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যের মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি জনমত গড়ে তুলতে চেয়েছেন। তার বক্তব্যের পর দ্রুতই মিডিয়ার দৃষ্টি এই নীতির দিকে ঘুরে যায়।
হ্যান্ডশেক না করা নীতি মূলত ২০২৫ সালের পাহালগাম হামলার পর গৃহীত হয়। সেই ঘটনার পর ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর “অপারেশন সিন্ধূর” নামে একটি প্রতিক্রিয়া অভিযান চালানো হয়, যার ফলে দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডশেক বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে ভারতীয় ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সঙ্গে হ্যান্ডশেক থেকে বিরত রয়েছে।
হ্যান্ডশেক ক্রিকেটের ঐতিহ্যিক রীতি, যা খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও স্পোর্টসম্যানশিপের প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। এই রীতি না মানলে উভয় দলের ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন তোলা হয় যে, ক্রীড়া মানদণ্ডে কি পরিবর্তন ঘটছে। বিশেষ করে টি২০ ফরম্যাটে এই ধরনের প্রতীকী কাজের গুরুত্ব বাড়ে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন সালমান আলি আগা এই নীতি সম্পর্কে মন্তব্য করে জানান, হ্যান্ডশেকের সিদ্ধান্ত শেষমেশ ভারতের দায়িত্ব। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “হ্যান্ডশেক করা হবে কি না, তা ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।” তার এই বক্তব্য ম্যাচের আগে মিডিয়ার প্রশ্নের উত্তর হিসেবে উঠে আসে।
ভারতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার যাদব একই সময়ে হ্যান্ডশেক বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তিনি প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলেন, “আমি আগামীকাল (রবিবার) এই বিষয়টি পরিষ্কার করব।” তিনি আরও যোগ করেন, “২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, আসুন আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—খেলা—খেলতে মনোযোগ দিই।” তার এই মন্তব্য ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
হ্যান্ডশেক নীতি ম্যাচের পূর্বে অন্যতম আলোচিত উপশিরোনাম হয়ে ওঠে। উভয় দলের ক্যাপ্টেনকে টসের সময় বা ম্যাচের পর হ্যান্ডশেক করবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। মিডিয়া এই বিষয়টি বিশদভাবে অনুসরণ করছে, যা ম্যাচের মূল ক্রীড়া দিকের পাশাপাশি সামাজিক দিকেও আলো ফেলছে।
এই গ্রুপ এ মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি টি২০ বিশ্বকাপের অন্যতম উচ্চপ্রোফাইলের টিকিট, যেখানে দু’দেশের ভক্তদের প্রত্যাশা শীর্ষে। কলম্বোর স্টেডিয়ামটি ভিড়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুত, এবং উভয় দলের পারফরম্যান্সের ওপর নজর থাকবে। হ্যান্ডশেকের বিষয়টি অতিরিক্ত মনোযোগ পেয়ে, ম্যাচের পরিবেশে একটি অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করেছে।
ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এই নীতি বজায় রাখার পেছনে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা উল্লেখ করে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি, তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্রীড়া নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মেলবন্ধন নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, হ্যান্ডশেকের মতো ছোটো রীতি ক্রীড়া নৈতিকতার বড় অংশ। যদি এই রীতি ত্যাগ করা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই বিষয়টি শুধুমাত্র একটি ম্যাচের উপশিরোনাম নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ম্যাচের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় উভয় দলের প্রস্তুতি ও কৌশলই প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি, তবে হ্যান্ডশেক নীতি নিয়ে বিতর্কের গতি কমবে না। শেষ পর্যন্ত মাঠে যে পারফরম্যান্স দেখা যাবে, তা থেকেই ভক্তদের মনোভাব গঠিত হবে, এবং হ্যান্ডশেকের সিদ্ধান্তের প্রভাবও স্পষ্ট হবে।



