ঢাকা, আজ (১৫ ফেব্রুয়ারি) – জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের নেতারা ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের ভোট গণনায় ত্রুটি প্রকাশ করে, মোট ৩২টি নির্বাচনী এলাকার ফলাফল পুনরায় গণনা করার দাবি জানিয়েছেন। এ দাবি ইলেকশন কমিশনের আগারগাঁও সদর দফতরে প্রকাশিত হয়।
জোটের সহকারী সচিব সাধারণ হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “শুরুটা ভাল ছিল, শেষটা নয়,” এবং ভোট গোনার প্রক্রিয়ায় ‘নকল ভোট, কালো টাকা, হিংসা ও সংঘর্ষ’ ব্যাপকভাবে ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এইসব বিষয়ের ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আজাদের মতে, ফলাফল শিটে অতিরিক্ত লিখন, মুছে ফেলা এবং এজেন্টদের স্বাক্ষরের অনুপস্থিতি দেখা গেছে, যা সঠিক গণনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশের অভাব নির্দেশ করে। তিনি জোটের পক্ষ থেকে ৩২টি আসনের তালিকা কমিশনকে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে গণনা ত্রুটির কারণে ফলাফল সংকীর্ণ মার্জিনে হেরিয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়।
জোটের প্রতিনিধিরা জানান, গেজেট প্রকাশের পরেও আইন অনুসারে তিনটি আপিলের স্তর রয়েছে – কমিশন, ট্রাইব্যুনাল এবং উচ্চ আদালত। তারা এই প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
প্রতিবাদী র্যালি ও প্রদর্শনের পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়েছে। জোটের সদস্যরা আগামীকাল বিকেল ৪:৩০ টায় ঢাকা বায়তুল মুকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সামনে সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে নির্বাচনী ‘হিংসা’কে নিন্দা করা হবে।
আজাদ সতর্ক করেন, অব্যাহত হিংসা দেশের অগ্রগতিকে পেছনে টেনে নেবে। তিনি যোগ করেন, “গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা শক্তির সঙ্গে আমরা কোনো সমঝোতা করব না। প্রয়োজনে আমরা রাস্তায় নেমে যাব।”
প্রশ্ন করা হলে জোটের পার্লামেন্টে শপথ নেওয়ার ইচ্ছা সম্পর্কে, আজাদ নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ইতিবাচকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা সংসদে যোগ দিয়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব, তবে রাস্তাও আমাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”
এই দাবিগুলি নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তবে জোটের আইনি ও শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ইলেকশন কমিশন এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের প্রতি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে জোটের তালিকাভুক্ত ৩২টি আসনের পুনর্গণনা ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে অগ্রসর হবে তা দেশের রাজনৈতিক দিগন্তে নতুন আলোচনার সূচনা করবে।



