সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথের আয়োজন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় করা হবে, যা বিএনপির অনুরোধে নির্ধারিত। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানালেন, শপথ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের এবং বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার জন্য নির্ধারিত।
সদস্যদের শপথের দায়িত্ব প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পালন করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। শপথের পরই বিএনপি তাদের পার্লামেন্টারী দলের প্রধানকে নির্বাচন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা নতুন সরকারের নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রিসভার শপথের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের দায়িত্ব নেবেন বলে জানানো হয়েছে। শপথের আনুষ্ঠানিকতা ও আমন্ত্রণের তালিকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে চূড়ান্ত করা হবে এবং এখন পর্যন্ত দেশের সব দূতাবাসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সাধারণত সংসদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, তবে এইবার উন্মুক্ত দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেওয়া হবে। ড. আসিফ নজরুলের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে বিএনপির স্পষ্ট ইচ্ছা রয়েছে, যা পূর্বে প্রকাশিত হয়েছিল।
বিএনপি এই স্থানকে নির্বাচন করেছে কারণ এটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ প্লাজা জুলাই ১৯৭২‑এর সনদ সংক্রান্ত অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজক হিসেবে পরিচিত। তাই নতুন সরকারের শপথকে এই স্থান থেকে নেওয়া ঐতিহ্যবাহী সংযোগকে পুনরুজ্জীবিত করবে।
ড. নজরুল উল্লেখ করেন, এই সংসদটি পূর্বের তুলনায় ভিন্ন, কারণ এটি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগ ও কষ্টের মাধ্যমে গঠিত। এই ঐতিহাসিক পটভূমি নতুন সংসদকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করে।
দক্ষিণ প্লাজার ইতিহাসে আরও কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশের অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা স্থানটির দস্তাবেজিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
এছাড়া, এই প্রাঙ্গণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ওসমান হাদির শেষকৃত্যও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই ঘটনাগুলি স্থানটির রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্বকে আরও দৃঢ় করে।
ড. নজরুলের মতে, দক্ষিণ প্লাজা কেবল শপথের স্থান নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক স্মৃতিচিহ্নের একটি কেন্দ্র। এখানে অনুষ্ঠিত শপথ নতুন সরকারের স্বীকৃতি ও দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করবে।
নতুন সংসদ গঠনের সঙ্গে সঙ্গে আইনসভা প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা হবে। শপথের পর দ্রুতই পার্লামেন্টারী দলগুলো তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করবে, যা সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
এই শপথ অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। উন্মুক্ত স্থানে শপথের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে আরও নিকটবর্তী হতে চায়, এবং ঐতিহাসিক স্থানকে ব্যবহার করে জাতীয় ঐক্য ও স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য রাখে।



