গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, সিট‑শেয়ারিং চুক্তির অধীনে ১৪টি আসন থেকে বেসামরিক পার্টি (বিএনপি) তার সহযোগী দলকে অর্পণ করলেও, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এ-ইসলামি‑নেতৃত্বাধীন ১১‑দলীয় জোটই অধিকাংশ জয় অর্জন করেছে।
বিএনপি সরাসরি কোনো প্রার্থী দাখিল না করে, তার গ্রাসরুট নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের সহযোগী দলের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দেয়। তবে চূড়ান্ত ফলাফল দেখায়, এই কৌশল প্রত্যাশিত ফল না দিয়ে, মাত্র পাঁচটি আসনই সহযোগী দল জিততে পেরেছে, বাকি নয়টি হারিয়ে গেছে।
বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল জামায়াত-এ-ইসলামি জোট। চুক্তি অনুযায়ী হারানো নয়টি আসনের মধ্যে, জামায়াতের প্রার্থী চারটি জায়গা দখল করেছে। জাতীয় নাগরিক দল ও খেলাফত মজলিস, উভয়ই জামায়াত‑এ‑ইসলামি জোটের অংশ, প্রত্যেকটি একটি করে আসন জিতেছে। অবশিষ্ট তিনটি আসনকে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করেছে।
বিএনপি নেতারা ফলাফলকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করে, প্রতিদ্বন্দ্বীরা যেখানে বিএনপি পিছু হটেছে, সেখানে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা সিট‑শেয়ারিংয়ের কার্যকারিতা ও গ্রাসরুট সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলেছে।
ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরাজয় ঘটেছে। বিপ্লবী শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি জোটের অংশীদার সাইফুল হাক, ৩০,৯৬৩ ভোট পেয়ে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী সাইফুল আলম মাইলনের কাছে হেরেছে, যিনি ৫৩,৭৭৩ ভোট সংগ্রহ করে ২২,৮১০ ভোটের পার্থক্যে জয়লাভ করেন। একই আসনে বিএনপি বিদ্রোহী সাইফুল আলম নীরব ২৯,৮৬৯ ভোট পেয়েছেন। বিএনপি নেতারা মন্তব্য করেন, যদি হাক ও নীরব একত্রিত হয়ে এক প্রার্থী হতেন, তবে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
বিএনপি জামিয়াত উলেমা‑ই‑ইসলামকে সর্বোচ্চ চারটি আসন অর্পণ করলেও, সেখানে কোনো প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেনি। ওই চারটি আসনে একটি খেলাফত মজলিসের প্রার্থী, একটি বিএনপি বিদ্রোহী, একটি জামায়াত-এ-ইসলামি এবং একটি জাতীয় নাগরিক দলের প্রার্থী জয়ী হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি বিদ্রোহী রুমিন ফারহানা ১,১৮,৫৪৭ ভোটে জয়লাভ করেন। জামিয়াতের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব ৮০,৪৩৪ ভোট পেয়ে ৩৮,১১৩ ভোটে পরাজিত হন।
সিলেট-৫ আসনে জামিয়াত উলেমা‑ই‑ইসলাম প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুক ৬৯,৭৭৪ ভোট সংগ্রহ করে হেরেছেন; যদিও বিজয়ীর নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে তিনি নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিএনপি এই ফলাফলের পর সিট‑শেয়ারিং নীতি পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে গ্রাসরুট সমন্বয়কে শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিয়েছে।



