রবিবার সকাল প্রায় নয়টায় সিরাজগঞ্জের পৌর এলাকার বিয়ারা ঘাটে একটি বাস এবং রিকশার সংঘর্ষ ঘটেছে। এসআই বাস কাউন্টার থেকে ঢাকা যাত্রা করা যাত্রীবাহী বাসটি রিকশাকে আঘাত করে, ফলে রিকশার যাত্রী আখি খাতুন (৩০) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আখি খাতুন বিয়ারা ঘাটের বাসিন্দা ফারুক হোসেনের স্ত্রী, যাকে স্থানীয় মানুষ গৃহবধূ হিসেবে চেনে।
সংঘর্ষের সময় রিকশা বাসের সামনে অচল হয়ে ছিল, ফলে দু’গাড়ির মধ্যে ধাক্কা লেগে যায়। রিকশা ভেঙে পড়ে, আর রিকশার চালক গুরুতরভাবে আহত হন। আহত চালককে তৎক্ষণাৎ সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে আখি খাতুনের মৃত্যু তৎক্ষণাৎ নিশ্চিত করা হয়।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় সমাবেশ করে সড়ক অবরোধ করে। প্রতিবাদকারীরা গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল থামিয়ে দেয়। এই অবরোধের ফলে এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং পার্শ্ববর্তী ব্যবসা-দোকানগুলোতে ব্যাঘাত ঘটে।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা রিকশা ও বাসের চালকদের কাছ থেকে প্রাথমিক বিবরণ সংগ্রহ করেন এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। অবরোধের সময় গৃহবধূের পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা হয়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওয়াইসি শাহীদুল ইসলাম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রিকশা চালকের অপরাধমূলক দায়িত্ব এবং বাসের চালকের অবহেলা উভয়ই তদন্তের আওতায় থাকবে।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, রিকশা অচল অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও বাসটি দ্রুত গতি বাড়িয়ে ধাক্কা মারায় বলে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল, গতি রেকর্ড এবং গাড়ির টায়ার চিহ্নের বিশ্লেষণ করা হবে।
আইনি প্রক্রিয়ার দিক থেকে, স্থানীয় থানা ও জেলা আদালতে মামলার রেজিস্ট্রেশন করা হবে। রিকশা চালকের চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ এবং গৃহবধূের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত বিষয়গুলোও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, মামলাটি দ্রুত আদালতে দাখিল করা হবে এবং শিকারের পরিবারকে যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই ধরনের ট্রাফিক দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে রিকশা ও বাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। সড়ক নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা, গতি সীমা রক্ষা করা এবং রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও উন্মোচিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অতিরিক্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে স্থানীয় সমাজে শোকের ছায়া ছড়িয়ে আছে, তবে আইনসঙ্গত ব্যবস্থা এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জনগণ আশাবাদী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে, ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।



