শনি রাত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অধিক্ষেত্রে অবস্থিত চরবাগডাঙ্গা ইউপির ফাটাপাড়া গ্রামার এক বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলে ইটের দেয়াল ভেঙে পড়ে, টিনের চাল উড়ে যায় এবং তীব্র শকওয়েভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণে তৎক্ষণাৎ দুইজন স্থানীয় বাসিন্দা, জিহাদ আলী ও আল আমিন, প্রাণ হারান। একই সময়ে তিনজন আহত হয়; ফাটাপাড়া গ্রামের বজলুর রহমান (২০), মিনহাজ (৫২) এবং রাণীহাটির রামচন্দ্রপুর এলাকার ধুমি গ্রাম থেকে মো. শুভ (২০) আহতদের মধ্যে রয়েছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে তৎকালীন জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে, তবে আহতদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশি নজরদারিতে ভর্তি করা হয়। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসা চলমান।
বিস্ফোরণ ঘটার পরপরই সদর থানা বিস্ফোরক আইনের অধীনে মামলা দায়ের করে। মামলায় মোট দশজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজানা আরও আট থেকে দশজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার মূল অভিযোগকারী হিসেবে এসআই বেলাল হোসেনকে উল্লেখ করা হয়েছে; তিনি মামলাটি দায়ের করার সময় থানার ওসি নূরে আলমের অনুমোদন পেয়েছেন। তদন্তের দায়িত্বে আছেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ।
অধিক তদন্তে শনি ভোর ৫টায় ঘটনার পরপরই তিনজন আহতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদেরকে আদালতে হাজির করা হবে। গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন হিসেবে শনি রাত দেড়টার দিকে চরবাগডাঙ্গা এলাকায় থেকে মো. ইউসুফ (৪৫) ও মো. শাকিল (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের পাশাপাশি আরও অন্যান্য সন্দেহভাজনকে ধরার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে আরও কয়েকজনের সন্ধান চলছে।
মামলার আইনি দিক থেকে, বিস্ফোরক আইনের অধীনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে বিস্ফোরক তৈরি ও ব্যবহার করা অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
অধিক তদন্তে, সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ উল্লেখ করেছেন যে, ঘটনাস্থলে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সরাসরি জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে বিস্ফোরকের উৎস ও প্রস্তুতি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে জোর দিচ্ছে। ভবিষ্যতে অনধিকৃত বিস্ফোরক উপকরণ ব্যবহার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
বিস্ফোরণ ঘটনার পর, স্থানীয় জনগণ শোক প্রকাশ করে এবং মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে, ঘটনাস্থল পরিষ্কার করা এবং পুনরুদ্ধার কাজ দ্রুততর করার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও প্রশাসনের সমন্বয় দেখা গেছে।
মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হবে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত থাকবে। তদন্তকারী দল সকল প্রাসঙ্গিক প্রমাণ, যেমন বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করে মামলাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে।



