রবিবার সকালের সময় গোপালগঞ্জ সদর থানা এলাকার গোপীনাথপুরের শরীফপাড়া মোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক ট্রলি ইট বহন করে চলার সময় ৭৫ বছর বয়সী মাছেম মোল্লা নামের বৃদ্ধকে ধাক্কা দেয়া হয়। ট্রলির ওজন ও গতি বৃদ্ধকে চেপে মারাত্মক আঘাত হানায়, ফলে তিনি শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় আহত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানো হয়।
মাছেম মোল্লা, যিনি স্থানীয় বাসিন্দা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন যখন ট্রলি তার পথে অপ্রত্যাশিতভাবে গতি বাড়িয়ে চলছিল। ইটের গুড়ি ও ট্রলির গতি একসাথে তার পা ও দেহে চরম চাপ সৃষ্টি করে, ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দ্রুত তার মৃত্যু ঘোষণা করেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ আনিসুর রহমান জানান, ঘটনাটি ফিলিং স্টেশনের সামনে ঘটেছে এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রলি চালকের পরিচয় জানার জন্য এবং ট্রলির রেজিস্ট্রেশন তথ্য সংগ্রহের কাজ বর্তমানে চলছে।
গোপিনাথপুর উপজেলা তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মমিনুল ইসলামও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, ট্রলি চালককে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয়েছে এবং ট্রলির গতি, লোডের পরিমাণ ও রুটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য তদন্তের আওতায় রয়েছে। এছাড়া, ট্রলি চালকের লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন নথি যাচাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে দ্রুত সমবেত হয়ে আহতকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেন। তারা তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে সহায়তা করেন। তবে, ট্রাফিক জ্যাম ও গতি সীমা অমান্য করার কারণে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা ভবিষ্যতে এধরনের দুর্ঘটনা রোধে সতর্কতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর পরিবারকে জানানো হয়। পরিবারিক সদস্যদের সঙ্গে সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি, হাসপাতালের প্রশাসন ঘটনাটির পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে জরুরি সেবা দ্রুততর করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
গোপালগঞ্জ পুলিশের মতে, ট্রলি চালককে গৃহীত আইনি ব্যবস্থা অনুসারে গৃহীত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে, ট্রলি চালকের বিরুদ্ধে ‘মৃত্যুজনিত অপরাধ’ এবং ‘ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন’ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে গিয়ে, মামলা স্থানীয় সশস্ত্র আদালতে দাখিল করা হবে।
এই ঘটনার পর গোপালগঞ্জে ট্রাফিক নিরাপত্তা ও ভারী লোডের গাড়ি চলাচল নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত সাইনেজ ও গতি সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি, ভারী লোডের গাড়ি চালকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অবশেষে, গোপালগঞ্জে এই দুঃখজনক দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে এবং ট্রাফিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



