28 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসুন্দরবনের শেলারচর জেলেপল্লীতে বনদস্যুদের আক্রমণে ছয় জেলে অপহৃত

সুন্দরবনের শেলারচর জেলেপল্লীতে বনদস্যুদের আক্রমণে ছয় জেলে অপহৃত

১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ১২ টার কাছাকাছি সময়ে সুন্দরবনের শেলারচর জেলেপল্লী এলাকায় বনদস্যু গোষ্ঠী ‘করিম শরীফ বাহিনী’ হঠাৎ অস্ত্রের হুমকি দিয়ে ছয়জন জেলেকে অপহরণ করে। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছে ৩৫ বছর বয়সী খায়রুল, ২৮ বছর বয়সী ফারুক, ২৫ বছর বয়সী সামসুল ইসলাম, ৩২ বছর বয়সী সফরুল, ২৮ বছর বয়সী মারুফ এবং ৩০ বছর বয়সী মিলন। এ সকলের বাসস্থান খুলনার কয়রা, বাগেরহাটের রামপাল এবং মোরেলগঞ্জ গ্রাম।

অপহরণের সময় বনদস্যুদের উপস্থিতি এবং তাদের হিংস্র আচরণ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার ঘটায়। শেলারচরের নিকটবর্তী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, দস্যু দলটি হঠাৎই শেলারচর জেলেপল্লীতে ঢুকে ছয়জন জেলেকে বন্দি করে নিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই ঘটনার আগে একই টহল ফাঁড়ির কাছাকাছি এলাকায় কোনো সতর্কতা বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আরেকজন কর্মকর্তা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে লইট্রাখালী এলাকায়ও দস্যুদের একটি দল জেলেদের একটি ট্রলার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও সেই ঘটনার শিকারদের সংখ্যা ও পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এই দুইটি ঘটনা একসাথে বনাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা শ্রী শরীফুল ইসলাম এই ঘটনার পর জেলেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য শেলারচর ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির কর্মীদের টহল কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, টহল রুটের পুনর্বিবেচনা, রাতের সময় বাড়তি নজরদারি এবং স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

অপহৃত জেলেদের পরিবারগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে শোক প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত তাদের মুক্তি প্রত্যাশা করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই বিষয়টি জানিয়ে, দস্যুদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। তদন্তে দস্যু গোষ্ঠীর পরিচয়, তাদের সরঞ্জাম এবং অপহরণকৃত জেলেদের অবস্থান নির্ণয় করা হবে।

বনদস্যু কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পূর্বে নেওয়া আইনগত ব্যবস্থা অনুসারে, সংশ্লিষ্ট দস্যুদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র দখল, অপহরণ এবং অস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, যদি দস্যুদের সনাক্ত করা যায়, তবে তারা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।

এই ঘটনার পর থেকে সুন্দরবনের জেলেদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক জেলে রাতের বেলা মাছ ধরতে যাওয়া থেকে বিরত থাকছেন এবং টহল ফাঁড়ির নির্দেশে নিরাপদ এলাকায় কাজ করছেন। স্থানীয় মৎস্য সমিতি এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মৎস্য কার্যক্রম সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

সুন্দরবন বন বিভাগ ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করে দস্যু গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করতে এবং অপহৃত জেলেদের নিরাপদে মুক্তি পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে টহল রুটের পুনর্গঠন, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অধিক তথ্য ও আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। জেলেদের পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে সুন্দরবনের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবিকা ও শান্তি বজায় থাকে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments