ভোলা জেলার চর ফাসন উপজেলায় গত রাত প্রায় ১০:৩০ টার দিকে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৪৫ বছর বয়সী আবদুর রহমান ভুট্টো প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে এই হত্যাকাণ্ডটি মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের ফলাফল হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ছিল রাসুলপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড নং ৫ এর কোলেরহাট সড়কের চৌরাস্তা, যেখানে ভুট্টো তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি মৃতপিতার আক্তেরুজ্জামান সোয়েলের পুত্র এবং একই পাড়া থেকে ছিলেন, ফলে স্থানীয় সমাজে তার পরিচয় বেশ পরিচিত।
শাশিবহুšan থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ ফখরুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় বর্তমানে তিনটি মাদক সিন্দুক সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ব্যবসা ভাগাভাগি নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। প্রতিটি গোষ্ঠীই বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও লাভের জন্য একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত। এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনো কখনো হিংসাত্মক সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়, যা সম্প্রতি এই অঞ্চলে বাড়তে দেখা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভুট্টোকে একদল অপরিচিত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে গুরুতরভাবে আহত করে। আক্রমণের সময় ভুট্টো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এবং অপরাধীরা দ্রুতই তার দিকে ছুরিকাঘাত চালায়। আক্রমণের পর অপরাধীরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, কোনো চিহ্ন রেখে যায়নি এবং দ্রুতই অদৃশ্য হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুট্টোকে রক্তপাত থামাতে সাহায্য করেন এবং তাকে চর ফাসন উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ডিউটি ডাক্তারের পরীক্ষা শেষে তিনি মৃত ঘোষিত হন। চিকিৎসা কর্মীরা জানান, ভুট্টোকে আহত অবস্থায় তৎকালীনই পৌঁছানো সত্ত্বেও রক্তক্ষরণ থামানো সম্ভব হয়নি, ফলে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ায়।
হত্যাকাণ্ডের জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে পুলিশ দ্রুত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শাশিবহুšan থানা দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত শারীরিক প্রমাণ এবং সাক্ষীর বিবরণ সংগ্রহ করে তদন্তকে ত্বরান্বিত করেছে। একই সঙ্গে, মাদক গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে অপরাধী সনাক্তকরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অঞ্চলে মাদক ব্যবসা নিয়ে চলমান বিরোধের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অনুরূপ হিংসাত্মক ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও তীব্রতর হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ও বাজার ভাগের জন্য প্রায়ই হিংসা দেখা দেয়, যা সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করে।
পুলিশের মতে, ভুট্টোকে আগের দিনই একই গোষ্ঠীর সদস্যরা আক্রমণ করেছিল, যা সম্ভবত এই মারাত্মক ঘটনার পূর্বসূচনা ছিল। তদন্ত দল এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা শারীরিক প্রমাণ, যেমন ছুরির টুকরা এবং রক্তের নমুনা, বিশ্লেষণ করে অপরাধীর সনাক্তকরণে কাজ করছে। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে ঘটনার পটভূমি ও সম্ভাব্য মোটিভ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অধিক তদন্তের পর ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মাদক সংক্রান্ত হিংসা রোধে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন এবং গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় জনগণও মাদক সংক্রান্ত হিংসা কমাতে সরকারী পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।



