ফ্রান্সের ঢাকা দূতাবাস শনিবার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিচালনা সম্পর্কে সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা প্রকাশ করেছে। বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের সময়সূচি, ভোটদান প্রক্রিয়া এবং ফলাফল প্রকাশের সকল ধাপ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এই উপলক্ষে ফ্রান্সের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে।
দূতাবাসের বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের ইতিবাচক মূল্যায়নকে স্বাগত জানানো হয়েছে। মিশনটি নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি, ভোটদান কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং ফলাফল ঘোষণার স্বচ্ছতা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলেছে। ফ্রান্স এই মূল্যায়নকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করেছে।
ফ্রান্সের দূতাবাস সব নির্বাচিত প্রার্থীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের নতুন দায়িত্ব পালনে সফলতা কামনা করেছে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী গৃহীত নতুন সংসদীয় গঠনকে দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সমৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়েছে। ফ্রান্সের এই শুভেচ্ছা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
বিশেষভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তার চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচনী বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়েছে। দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিএনপি ও তার নেতৃত্বের নির্বাচনী অংশগ্রহণ দেশের বহুমুখী রাজনৈতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি যে ভোটের ফলাফল অর্জন করেছে, তা দেশের রাজনৈতিক বৈচিত্র্যকে শক্তিশালী করেছে বলে ফ্রান্সের প্রতিনিধি দল মন্তব্য করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক মিশনের স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের প্রতি ফ্রান্সের দূতাবাস আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। মিশনের সদস্যরা ভোটদান কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ, ফলাফল যাচাই এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যে অবদান রেখেছেন, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মানদণ্ডকে উন্নত করেছে। ফ্রান্সের এই ধন্যবাদ বার্তা মিশনের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠাকে স্বীকৃতি দেয়।
দূতাবাসের বিবৃতিতে নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ফ্রান্স ও বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে উন্নত করতে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্প চালু করার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে।
ফ্রান্সের এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে নতুন সরকারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নয়নে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে দু’দেশের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়া, বিনিয়োগ সুযোগ এবং মানবিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাবে। এ ধরনের উদ্যোগগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ফ্রান্সের ঢাকা দূতাবাসের বার্তা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সাফল্যকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করেছে এবং নতুন সরকারকে সমর্থন করার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। এই শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার ইচ্ছা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



