বিশ্বকাপের টি-টোয়েন্টি শিরোনামধারী দল নেপাল, আজ রবিবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ম্যাচের আগে কোচ স্টুয়ার্ট ল স্পষ্টভাবে খেলোয়াড়দের সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, মাঠে মনোযোগ বজায় রাখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমর্থক ও লাইক পাবেন।
গতবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপাল, বাংলাদেশকে পরাজিত করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চমকে দিয়েছিল এবং শীঘ্রই ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল। তবে সেই সাফল্য এইবারের টুর্নামেন্টে পুনরাবৃত্তি হয়নি।
এই শিবিরের সূচনায় নেপাল কিছুটা আশাব্যঞ্জক পারফরম্যান্স দেখিয়েও, ইতালির বিরুদ্ধে বড় পরাজয় ভোগ করে। দশ উইকেটের ব্যবধানে দলটি হেরে, ফলে দুই ম্যাচের পরই সি গ্রুপের শেষ দিকে নামিয়ে এসেছে।
গ্রুপ সি-তে এখন নেপাল নিচের দিকে আটকে আছে, এবং পরবর্তী ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি রবিবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দলটির জন্য পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোচ লের বার্তা স্পষ্ট: সামাজিক মিডিয়া থেকে দূরে থাকো, কারণ অতিরিক্ত মনোযোগ বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ড ও ইতালি ম্যাচের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে একই রকম ব্যর্থতা এড়ানো যায়।
নেপাল প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে মাত্র চার রানের পার্থক্যে হারে, যা দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামতে সাহায্য করেছিল। তবে ইতালির বিপক্ষে একই শক্তি দেখাতে না পারা পুরো টুর্নামেন্টের গতি বদলে দিয়েছে।
ইতালির বিরুদ্ধে বড় পরাজয় দলের মানসিকতা ও কৌশলে বড় ফাঁক প্রকাশ করেছে। কোচ ল এই পার্থক্যের মূল কারণ খুঁজে বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে জোর দিয়েছেন।
সামাজিক মিডিয়া নেপালের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার খেলোয়াড়দের মনোযোগ বিচ্যুত করতে পারে। কোচ ল বলেন, যদি খেলোয়াড়রা অন্যের মন্তব্য বা অনলাইন আলোচনায় বেশি সময় ব্যয় করে, তবে মাঠে তাদের কাজের মান কমে যায়।
অনেক খেলোয়াড় স্পন্সরশিপ ও এন্ডোর্সমেন্টের জন্য সামাজিক মিডিয়ার ওপর নির্ভরশীল, তবে কোচের মতে বিশ্বকাপের মূল লক্ষ্য হল ক্রিকেটে সাফল্য অর্জন। তিনি খেলোয়াড়দের স্মরণ করিয়ে দেন, জয়ী হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনপ্রিয়তা বাড়বে।
কোচ ল নিজেকে সামাজিক মিডিয়া যুগের “ডাইনোসর” বলে উল্লেখ করে, তার নেতিবাচক প্রভাব স্বীকার করেন, তবে ইতিবাচক দিক সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারেন না। তাই তিনি দলকে ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্দেশ দিচ্ছেন, যাতে ক্রিকেটের প্রতি একাগ্রতা বজায় থাকে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যখন ক্রিকেটের মধ্যে আছো, তখন শুধুমাত্র ক্রিকেটে মনোযোগ দাও। মাঠের বাইরে যে কোনো অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও কাজকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই নির্দেশনা নেপালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরবর্তী ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের মুখোমুখি হতে হবে। কোচের আশা, খেলোয়াড়রা সামাজিক মিডিয়ার চাপে না গিয়ে মাঠে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাবে।
সারসংক্ষেপে, নেপালের কোচ স্টুয়ার্ট ল সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারে সীমা আরোপ করে, খেলোয়াড়দের মনোযোগ ক্রিকেটে কেন্দ্রীভূত করতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক মনোভাব ও কঠোর পরিশ্রমই দলকে গ্রুপে উপরে উঠাতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সাফল্য এনে দেবে।



