বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের পর ঘটিত সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদসূচক মিছিল পরিচালনা করেছে। মিছিলটি শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১ টার পর ঢাকার বাংলামোটরের রূপায়ন ট্রেড সেন্টারের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয় এবং শাহবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর সমাপ্ত হয়। দলটি ভোটাধিকার ব্যবহারকারী নাগরিকদের ওপর হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরোধিতা করে, পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি ব্যবস্থা চায়।
মিছিলের সূচনা সময় রূপায়ন ট্রেড সেন্টারের সামনের অংশে দলীয় কর্মীরা একত্রিত হয়। এরপর তারা বাংলামোটর থেকে গাড়ি ও পায়ে চলা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হয়, যেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর মিছিল শেষ হয়। রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল, তবে কোনো বড় ধরণের বিশৃঙ্খলা রেকর্ড করা যায়নি।
এই কর্মসূচি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়। দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিতরা একত্রে মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলীয় ম্যান্ডেটের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানায়।
মিছিলের সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ধর্ষকদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘একদিনে ৩ খুন, তারেক জিয়ার অনেক গুণ’ ইত্যাদি স্লোগান শোনায়। এই স্লোগানগুলো নির্বাচনের পর ঘটিত হিংসা ও ভাঙচুরের প্রতি তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করে।
দলটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচনের পর ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে। তারা দাবি করে যে, এই এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর নির্দয় আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা ভোটারদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই আক্রমণের সঙ্গে বিএনপি-সমর্থিত গোষ্ঠীর সম্পর্ক নির্দেশ করে, তবে এ বিষয়ে বিএনপি থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দলটি উল্লেখ করে যে, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের প্রমাণ সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রত্যাখ্যান শোনা যায়নি।
দলটি ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১১ টার দিকে চান্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তিন সন্তানের জননীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায়। অভিযোগ অনুসারে, ঘটনাকালে ভুক্তভোগীর স্বামীকে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
পরের দিন সকালে একই বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটার কথাও দলটি উল্লেখ করে। এই আক্রমণে বাড়ির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিবারকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলে। বর্তমানে ওই নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জানায়, গত তিন দিনে হাতিয়া এলাকায় অন্তত ৫০০ নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ১৩ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দলটি এই হামলাগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে চালানো বলে অভিযোগ করে।
দলীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেন, ভোটাধিকার ব্যবহার করার সময় কোনো নাগরিকের ওপর সহিংসতা করা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের বিরোধী। তারা দাবি করে যে, নির্বাচনের পর এই ধরনের হিংসা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং তা অবিলম্বে থামাতে হবে।
দলটি তৎক্ষণাৎ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়, দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে দলীয় নেতারা এই ঘটনার প্রতি তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। মিছিলের শেষে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে এবং নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের প্রতিবাদ ও দাবি দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে শাসনকর্তা ও বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে। যদি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে অনুরূপ হিংসা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে।
অবশেষে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী সহিংসতার শিকারের প্রতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। মিছিলের মাধ্যমে প্রকাশিত এই দাবিগুলো পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে যাবে।



