26 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারোজা আগে খেজুরের বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ঘনিষ্ঠ, দাম স্থিতিশীল

রোজা আগে খেজুরের বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ঘনিষ্ঠ, দাম স্থিতিশীল

রোজার শেষ দিনগুলোতে ইফতারির অপরিহার্য উপাদান খেজুরের চাহিদা তীব্রতা পেয়েছে, ফলে রাজধানীর প্রধান বাজারগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতার ভিড় বেড়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট এবং তার সামনের অস্থায়ী খেজুরের স্টলগুলোতে বিশাল গোষ্ঠী দেখা গিয়েছে।

এই প্রবাহের পেছনে সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দীর্ঘ ছুটির সময় গ্রামাঞ্চল থেকে ঢাকায় ফিরে আসা ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

বাজারে বিভিন্ন নাম, স্বাদ ও আকৃতির খেজুর সাজিয়ে বিক্রেতারা গ্রাহকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন; ক্রেতারা নাম ও মূল্যের তথ্য জানার জন্য সক্রিয়ভাবে প্রশ্ন করছেন।

বিক্রেতারা জানান, এই বছর খেজুরের দাম গত বছরের সমান, তবে বেশিরভাগ ক্রেতা দাম বৃদ্ধি অনুভব করছেন।

একজন ক্রেতা উল্লেখ করেন, তিনি এক কেজি মাঝারি মানের খেজুর ৬০০ টাকায় কিনেছেন, যদিও বিক্রেতা প্রাথমিকভাবে ৭০০ টাকা দাবি করছিলেন; দরদাম শেষে তিনি ৬০০ টাকায় পণ্যটি পেয়ে গেছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, রোজার সময় খেজুরের ব্যবহার বাড়ার কারণে দাম সামান্য কমলে গ্রাহকদের জন্য উপকার হবে।

বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে মানভেদে খেজুরের দাম ২৫০ টাকার নিচে থেকে ১৮০০ টাকার উপরে পর্যন্ত বিস্তৃত।

খুচরা বাজারে মাবরুমের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, দাবাস ৪০০ টাকা, সুক্কারু (সাধারণ মানের) ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি মানের আম্বার ৭০০ থেকে ১৬০০ টাকা, কামরাঙা ৬৫০ টাকা, মরিয়ম ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা, এবং উচ্চমানের মেডজুল ও আজওয়া ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়।

দেশের মোট খেজুরের চাহিদা প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানি করে পূরণ করা হয়; এর ৮০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কিছু দেশ থেকে আসে। প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ইরাক, ইরান, জর্ডান, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত।

ব্যবসায়ীরা জানান, সৌদি আরব থেকে আসা মেডজুল, আজওয়া, আম্বার, মাবরুম ও সুক্কারি জাতের খেজুরের চাহিদা সর্বোচ্চ, আর ইরান, জর্ডান ও মিশর থেকে আসা মরিয়মের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে, স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের পছন্দের জাহিদি ও দাবাসের বেশিরভাগই ইরাক থেকে সরবরাহ হয়।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) শনিবারের বাজারদর প্রকাশ করে, যেখানে সাধারণ মানের খেজুরের সর্বনিম্ন দাম ১৮০ থেকে ৫৫০ টাকা প্রতি কেজি। এই মূল্য এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত মূল্যের সঙ্গে অপরিবর্তিত।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর একই সময়ে বাজারে খেজুরের দাম প্রায় একই স্তরে ছিল, যা বর্তমান মূল্য স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে।

বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও, রোজার আগে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ বাড়তে পারে; বিশেষ করে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য দাম বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।

ভবিষ্যতে রোজা মাসে চাহিদা শীর্ষে পৌঁছালে আমদানি পরিমাণ বাড়বে, তবে সরবরাহকারী দেশগুলোর রাজনৈতিক বা পরিবহন সংক্রান্ত কোনো ব্যাঘাত ঘটলে দাম দ্রুত উত্থান পেতে পারে।

সুতরাং, খেজুরের বাজারে বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমদানি চ্যানেল ও স্থানীয় সরবরাহের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ, এবং রোজা মৌসুমের চাহিদা পূরণে মূল্য সংবেদনশীল গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্পের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments