মগবাজারে জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার রাতের সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়কারী হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্টভাবে জানালেন, সংসদে তারা গঠনমূলক ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে। এই ঘোষণার পেছনে জোটের অভ্যন্তরীণ বৈঠকের ফলাফল ও নির্বাচনী ঐক্যের ভিত্তি রয়েছে।
বৈঠকে ১১ দলের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে পারস্পরিক সমন্বয় নিশ্চিত করে, সংসদীয় ভূমিকা ও কৌশল নির্ধারণের জন্য একটি যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তগুলো আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত হয়, যেখানে আযাদ জোটের সংহতি ও লক্ষ্যকে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন।
আযাদের মতে, গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে তারা সরকারের নীতি ও আইন প্রণয়নে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি রাখবে, তবে তা ধ্বংসাত্মক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা জনস্বার্থ ও দেশের স্বার্থে সংসদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করব, এবং সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজকে এগিয়ে নেব।” এই বক্তব্য জোটের নীতি-নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
বিরোধী দল হিসেবে তারা সকল রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক, তবে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো পদক্ষেপের মুখে তারা রাস্তায় নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখবে। আযাদ উল্লেখ করেন, “যদি কোনো দল আইনানুগ নয় এমনভাবে দাবি করে এবং আমাদের বাধা দেয়, তবে আমরা জনমুখে প্রতিবাদে প্রস্তুত।” এই বিবৃতি জোটের সক্রিয় প্রতিবাদ ক্ষমতা প্রকাশ করে।
গতকালই জোটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য বজায় রাখা। আযাদ জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের ঐক্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট ছিল এবং এখন তা সংসদে ও সংসদের বাইরে সমানভাবে প্রয়োগ হবে।” এই ঐক্য জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও সমন্বয়কে শক্তিশালী করে।
সংসদে তারা যে ভূমিকা পালন করবে তা শুধুমাত্র বিরোধী নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য। আযাদের মতে, “দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে, এবং জনস্বার্থে আমরা একসাথে কাজ করব,” যা জোটের সমন্বিত কৌশলকে তুলে ধরে।
উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়ে আযাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ছিল, তিনি বলেন, “গণভোটের ফলাফলের অনুপাতেই উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করা উচিত।” এই দাবি জোটের প্রস্তাবিত ন্যায্যতা ও গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণকে নির্দেশ করে।
আযাদের এই বক্তব্যের ভিত্তিতে জোটের লিয়াজোঁ কমিটি আসন বণ্টন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা সকল দলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই বিষয়টি সমাধান করতে চাই, যাতে সংসদীয় প্রতিনিধিত্বে সমতা বজায় থাকে।”
এই ঘোষণার ফলে সংসদে বিরোধী দলের সংখ্যা ও প্রভাব বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে জোটের সক্রিয় অংশগ্রহণ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে এবং সরকারের নীতিগুলোর উপর সমালোচনামূলক পর্যালোচনা নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে, সরকারী দলগুলোর কাছ থেকে এই ঘোষণার প্রতি ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সংসদে আলোচনার তীব্রতা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জোটের এই অবস্থান পার্লামেন্টের কাজের গতি ও বিষয়বস্তুতে প্রভাব ফেলতে পারে।
লিয়াজোঁ কমিটি এখন থেকে নিয়মিত বৈঠক করে জোটের নীতি ও কৌশল সমন্বয় করবে, এবং সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আযাদের শেষ মন্তব্যে জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রতি দৃঢ় সংকল্প স্পষ্ট হয়েছে।



