ইমরান খান, যিনি বর্তমানে আদিয়ালা জেলে কারাবন্দি, তার স্বাস্থ্য অবস্থা নিয়ে পাকিস্তানি সরকার নতুন পদক্ষেপ নেয়। পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী ডা. তরিক ফজল চৌধুরী শনিবার জানিয়েছেন যে, সরকার একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করেছে। এই সিদ্ধান্তটি দুই দিন ধারাবাহিক প্রতিবাদের পর নেওয়া হয়েছে, যেখানে টিটিএপি ও পিটিআই পার্লামেন্ট ও কেপি হাউসে সিট-ইন করে তৎকালীন চিকিৎসা দাবি করছিল।
প্রতিবাদকারীরা ইমরান খানের তীব্র দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার তাত্ক্ষণিক সমাধান চেয়েছেন। তারা দাবি করে যে, কারাবন্দি অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা না পেলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। সিট-ইনটি ইস্লামাবাদের পার্লামেন্ট হাউস ও কেপি হাউসে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সদস্যরা দীর্ঘ সময় বসে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।
মেডিকেল বোর্ড গঠন ও হাসপাতাল স্থানান্তরের ঘোষণা ডা. তরিক ফজল চৌধুরীর অফিসিয়াল বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিটি বন্দীর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা প্রদান সরকারী দায়িত্ব। এই প্রেক্ষাপটে, সরকার ইমরান খানের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দল গঠন করে তার বর্তমান স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজবে।
একই সময়ে, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুসারে ইমরান খানকে তার দুই পুত্রের সঙ্গে ২০ মিনিটের টেলিফোন কথোপকথনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্দীর পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ে যোগাযোগের অধিকার প্রদান করা হয়েছে, যা তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
পিএমএল-এন মন্ত্রীর শনিবার রাতের টুইটে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বাস্থ্য বিষয়কে রাজনৈতিক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পিটিআইকে রোগীর স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে সংযম বজায় রাখতে হবে।
তথ্য মন্ত্রী আতাউল্লাহ ত্যারারও একই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইমরান খানের চোখের সমস্যার জন্য বিশেষায়িত চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসা একটি উচ্চমানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে করা হবে। ত্যারার উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ আদালতে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে অনধিকার speculation এবং রাজনৈতিক রেটোরিক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, রোগীর স্বাস্থ্যের বিষয়কে স্বার্থপর রাজনৈতিক লাভের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয় এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে ইমরান খানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়টি এখন সরকারি ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধান হওয়ার পথে রয়েছে। পার্লামেন্টে চলমান বিতর্কের পাশাপাশি, সরকারী মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট সর্বোচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হবে, যা ভবিষ্যতে বন্দীর চিকিৎসা অধিকার সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। পিটিআই ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কৌশলও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।



