মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সামনে ভেনেজুয়েলা সফরের পরিকল্পনা জানিয়ে দেন। তিনি সফরের নির্দিষ্ট তারিখ বা ভ্রমণসূচি প্রকাশ না করেও ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে “দশে দশ” বলে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে থাকা সরকার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা শক্তিশালী, বিশেষ করে তেলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমন্বিত কাজ চলছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলা সরকারের স্বীকৃতি প্রদান করেছে এবং নিয়মিত সংযোগ বজায় রাখছে বলে জানান।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা বাড়বে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের মুখপাত্র পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, যা বর্তমান ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ধারণা করা যায়।
গত মাসের শুরুর দিকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলা ভূখণ্ডে একটি অভিযান চালিয়ে তখনকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে। এই ঘটনার পর ট্রাম্প মাদুরো দম্পতিকে “আমেরিকান বিচারের মুখোমুখি” করার কথা উল্লেখ করেন এবং নিউইয়র্কের পাশাপাশি ফ্লোরিডা ও অন্যান্য শহরে তাদের বিচার হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
মাদুরো ও ফ্লোরেসের গ্রেফতারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার সংস্থা ও কিছু দেশ সমালোচনা করলেও মার্কিন সরকার এটিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রক্ষা করেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
ট্রাম্পের সফর ঘোষণার ফলে ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনরায় মূল্যায়ন প্রত্যাশিত। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে সফরটি দুই দেশের মধ্যে তেল রপ্তানি, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির। মাদুরোর গ্রেফতার এবং তার পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ট্রাম্পের সফরের সময়কালে আন্তর্জাতিক নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করে, এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্পের সফর পরিকল্পনা এখনও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ না হওয়ায় বিশদ সময়সূচি ও ভ্রমণসূচি সম্পর্কে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্রের মতে, সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়া শক্তিশালী করার লক্ষ্যে হবে এবং তা শীঘ্রই নির্ধারিত হবে।
এই ঘোষণার পর ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। কিছু দল যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছে, আবার অন্যরা মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা সফরের ঘোষণা এবং সম্পর্ককে “দশে দশ” বলে বর্ণনা করা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে এই সফর কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং তা ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অবস্থানে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



