ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে চট্টগ্রাম জেলা ও তার পার্শ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে বিএনপি প্রধান পার্টি হিসেবে উদয় হয়েছে। দলটি মোট ১৬টি আসনে ১২টি জয় নিশ্চিত করে অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে।
বিএনপি-র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এ-ইসলামি দুইটি আসনে সাফল্য দেখিয়েছে। সেগুলো হল সাতকানিয়া-লোহাগড়া ও বাঁশখালী, যেখানে দলটি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও জয় পেয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আদালতের আদেশে স্থগিত রাখা হয়েছে, ফলে এই দুইটি সীটে ভোটের চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো বাকি।
রাওজান উপজেলার গোহিরা গ্রাম থেকে একসাথে তিনজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই নির্বাচনের অন্যতম রেকর্ড। গিয়াস উদ্দিন কাদার চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬), তার ভাগ্নে হুম্মাম কাদার চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭) এবং সায়েদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০) সবাই বিএনপি টিকিটে জয়লাভ করেছেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদার চৌধুরী veteran রাজনীতিবিদ, আর হুম্মাম ও নোমান প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করছেন। গোহিরা গ্রামকে এই তিনজনের জয়কে “একটি বিরল সম্মান” বলে স্থানীয় বাসিন্দা এসএম শাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেছেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদার চৌধুরী বলেন, গোহিরা গ্রাম দীর্ঘদিন থেকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও জানান, পূর্বের নির্বাচনে এই গ্রাম থেকে একসাথে ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। “এটি আমাদের গর্বের বিষয়,” তিনি যোগ করেন।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম-১) আসনে নুরুল আমিনের জয় স্থানীয় ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ১৯৯৮ সালে ওসমানপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করা আমিন, জামায়াত-এ-ইসলামির মোহাম্মদ সাইফুর রহমানকে ৪৪,২৬১ ভোটের পার্থক্যে পরাজিত করে ১,২৮,৭৯৯ ভোট সংগ্রহ করেন।
নুরুল আমিন ২০১৪ সালে পূর্বতন শাসন দ্বারা অপসারিত উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে ফিরে এসে এই জয় অর্জন করেছেন। তার জয় মিরসরাই এলাকার ভোটারদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
বিএনপি-র এই বিস্তৃত জয় এবং গোহিরা গ্রাম থেকে একাধিক প্রতিনিধির নির্বাচনের ফলে পার্লামেন্টে দলের প্রভাব বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষত, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে পারে।
অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামি দুইটি আসনে জয়লাভ সত্ত্বেও পার্লামেন্টে তাদের প্রভাব সীমিত থাকবে। তবে তারা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিরোধী শক্তি হিসেবে ভূমিকা বজায় রাখবে।
বিচারিক আদেশে স্থগিত চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল শীঘ্রই প্রকাশের প্রত্যাশা রয়েছে। এই দুইটি আসনের ফলাফল পার্লামেন্টের সামগ্রিক সংখ্যাগণনা এবং সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চট্টগ্রাম জেলায় ফলাফল বিএনপি-কে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।



