18 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগেলসেনকিরখেনে ক্রিসমাসের পর ব্যাংক চুরি, ৩ হাজারেরও বেশি সেফ ডিপোজিট বক্স লুট

গেলসেনকিরখেনে ক্রিসমাসের পর ব্যাংক চুরি, ৩ হাজারেরও বেশি সেফ ডিপোজিট বক্স লুট

জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের গেলসেনকিরখেন শহরের একটি হাই স্ট্রিট ব্যাংকে ক্রিসমাসের পরের সপ্তাহান্তে বিশাল চুরি সংঘটিত হয়েছে। ২৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে, একদল অপরাধী শিল্প ড্রিল ব্যবহার করে ব্যাংকের দেয়াল ভেদ করে সেফ ডিপোজিট বক্সে সংরক্ষিত সম্পদ চুরি করে গেছেন।

বিবরণ অনুযায়ী, চোররা গেলসেনকিরখেনের বুয়ের জেলা অবস্থিত নিনহফস্ট্রাসে স্পার্কাসে সেভিংস ব্যাংকে প্রবেশ করে। তারা পার্শ্ববর্তী বহুতলা পার্কিং গ্যারেজের সঙ্গে সংযুক্ত একটি দরজা ব্যবহার করেছে, যা সাধারণত বাহির থেকে খোলা যায় না। তবে চোররা এই দরজার মেকানিজমে পরিবর্তন আনে, ফলে গ্যারেজ থেকে ব্যাংকের মূল ভবনে বাধা ছাড়া প্রবেশের পথ তৈরি হয়।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করার পর, চোররা ব্যাংকের তলায় অবস্থিত ভল্টের পাশে একটি আর্কাইভ রুমে পৌঁছায়। সেখানেই তারা ড্রিল স্থাপন করে, প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার প্রস্থের একটি গর্ত তৈরি করে শক্তিশালী সেফ ডিপোজিট রুমে প্রবেশ করে। এই রুমে ৩,০০০টিরও বেশি সেফ ডিপোজিট বক্স ছিল, যেখানে গ্রাহকদের জীবনের সঞ্চয়, পারিবারিক গহনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষিত ছিল।

চুরির পরপরই, ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের সম্পদ হারানোর শক ও ক্রোধ প্রকাশ করে। কিছু গ্রাহক জানান, তারা তাদের সঞ্চয় ও পারিবারিক গহনা সম্পূর্ণ হারিয়েছেন, যা তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে।

গেলসেনকিরখেনের পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করতে পারেনি এবং এক মাসের বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও তদন্ত চলমান। পুলিশ জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়ে সাক্ষী বা তথ্য প্রদানকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেছে।

নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী হেরবার্ট রয়েল এই ঘটনার উপর মন্তব্য করে প্রশ্ন তোলেন, কেন কেউ ড্রিলের শব্দ শুনতে পাননি, কীভাবে চোররা ভল্টের সঠিক অবস্থান জানত এবং ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি যথেষ্ট ছিল কিনা। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের বড় আকারের চুরি ঘটলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা অনুমান করেন, চোররা গ্যারেজের দরজার সাথে চুরি করার সময় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে ব্যাংকের মূল ভবনে প্রবেশের পথ তৈরি করেছে। সাধারণত এই দরজা বাইরে থেকে খোলা যায় না, তবে চোররা তা এমনভাবে পরিবর্তন করেছে যাতে এটি সঠিকভাবে বন্ধ না হয়। ফলে তারা গ্যারেজ থেকে সরাসরি ব্যাংকের তলায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

চোরদের ব্যবহৃত ড্রিলের মাধ্যমে তৈরি গর্তটি প্রায় ১৫.৭ ইঞ্চি (৪০ সেমি) প্রশস্ত, যা সরাসরি সেফ ডিপোজিট রুমের দেয়ালে করা হয়। এই গর্তের মাধ্যমে তারা বক্সগুলো খুলে, ভিতরের সম্পদ সংগ্রহ করে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়।

অধিক তথ্য না থাকলেও, তদন্তের সূত্র নির্দেশ করে যে চোররা সম্ভবত উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে এবং ব্যাংকের নিরাপত্তা ক্যামেরা বা অ্যালার্ম সিস্টেমকে অতিক্রম করার কোনো পদ্ধতি জানত। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভ্যন্তরীণ সহযোগী বা কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই চুরি জার্মানির ব্যাংকিং সেক্টরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে সেফ ডিপোজিট বক্সে সংরক্ষিত সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকল গ্রহণ করতে হতে পারে।

গেলসেনকিরখেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ফেডারেল পুলিশ এই মামলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। চোরদের সনাক্তকরণ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত চোরদের কোনো সনাক্তকরণ করা যায়নি, তবে পুলিশ আশাবাদী যে সাক্ষী ও তথ্য প্রদানকারীর সাহায্যে দ্রুতই অপরাধীদের ধরা পড়বে এবং গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা সম্ভব হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments