17 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি১১ দলীয় জোট উচ্চ আদালতে ভোট কারচুপির রিটের আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিল

১১ দলীয় জোট উচ্চ আদালতে ভোট কারচুপির রিটের আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিল

১৩ই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর, ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট ভোট জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ সমাধানের জন্য উচ্চ আদালতে রিটের আবেদন দায়ের করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি জরুরি বৈঠকে নেওয়া হয়। জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সভার সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থিত সব শারিক দলের প্রতিনিধিরা একমত হন।

বৈঠকের শেষে মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরপরই ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতারাতি গেজেট প্রকাশের তাড়াহুড়া অনেক আসনে পুনঃগণনার সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করেছে। রেজাল্ট পার্সোনাল অফিসার (আরপিও) অনুযায়ী, পুনর্গণনা প্রক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় প্রার্থীরা ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই জোটের নেতৃত্ব ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল ইত্যাদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া প্রায় ৩০টি আসনে বিশেষভাবে হাইকোর্টে রিটের আবেদন করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটের নেতারা ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী কমিশনের অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে চান। এছাড়া, রিটের আবেদন দায়েরের পর আদালতের রায়ের ভিত্তিতে পুনর্গণনা বা অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। শীর্ষস্থানীয় নেতারা উল্লেখ করেন, জোটের ঐক্য শুধুমাত্র ভোট সংগ্রহে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সংসদে ও সংসদের বাইরে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কোনো নীতি বা কর্মসূচি জোটগতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও বাহ্যিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য প্রকাশ পায়।

বৈঠকে উপস্থিত দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, জাগপা, লেবার পার্টি এবং অন্যান্য শারিক দল অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি দলের প্রতিনিধিরা জোটের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে, ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই সমন্বয় জোটের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের ফলাফলও আলোচিত হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয়ী হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০টি আসনে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী আসন বরাদ্দ করা হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্টের সুযোগ থাকবে না, যা জোটের সমন্বিত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

জোটের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, সংসদ কার্যকর হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি করা হবে। এই দাবি পার্টি গুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। ফলে নির্বাচনের পরপরই নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত হবে।

বৈঠকে নির্বাচনের আগে ও পরে জোটের নারী কর্মীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়। শারিক দলের নেতারা এই ধরনের আক্রমণকে গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর নিন্দা প্রকাশ করেন। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

নেতারা হুঁশিয়ার করেন, যদি কোনো দল বা ব্যক্তি জোটের ঐক্যকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে, তবে তা রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। এই সতর্কবার্তা জোটের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বাহ্যিক চাপের মুখে দৃঢ় অবস্থান রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনর্স্থাপন করার গুরুত্বেও জোর দেন।

উল্লেখযোগ্য যে, রিটের আবেদন দায়েরের পর উচ্চ আদালত থেকে কী রায় আসবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে জোটের নেতৃত্বের মতে, আদালতের রায় যদি ভোট পুনর্গণনা বা সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়, তবে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের ফলাফলকে ন্যায়সঙ্গত করার পাশাপাশি জোটের রাজনৈতিক বৈধতা বাড়াবে।

জোটের সিদ্ধান্তের ফলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকৃতি দেখা যাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। রিটের আবেদন যদি সফল হয়, তবে অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীরাও অনুরূপ পদক্ষেপ নিতে পারে। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপিত হতে পারে।

অন্যদিকে, জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখতে এবং পার্টিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি গৃহীত হবে। পার্টি নেতারা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে, নীতি নির্ধারণে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করেন। এই ধরনের সমন্বয় জোটকে ভবিষ্যতে সংসদীয় ও বহিরাঙ্গনীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্তিশালী করবে।

বৈঠকের শেষে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক উল্লেখ করেন, গেজেটের তাড়াহুড়া এবং ভোট পুনর্গণনা না হওয়ার বিষয়টি নির্বাচনের স্বচ্ছতায় বড় প্রভাব ফেলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ত্রুটি ভবিষ্যতে না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জোটের এই দৃঢ় অবস্থান নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

সারসংক্ষেপে, ১১ দলীয় জোটের উচ্চ আদালতে রিটের আবেদন দায়েরের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জোট ভোট জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগকে আইনি পথে সমাধান করতে চায় এবং একই সঙ্গে সংসদে ও বাইরে ঐক্য বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের ফলাফল দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments